মির্জাপুরে শিশু ধর্ষণে ধর্ষক দুলাভাই ও সহযোগী শ্যালক গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক ও সহযোগী শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের অমৃত সরকারের মেয়ের জামাই ধর্ষক পলাশ সূত্রধর ও ধর্ষকের সহযোগী শ্যালক সঞ্জয় সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিশুটি বাবা-মার সঙ্গে পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বাবা অজয় সরকার সজিব একজন ট্রাকচালক। মা কুমুদিনী হাসপাতালে কাজ করেন।

গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের দিকে শিশুটির বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পলাশ সূত্রধর শ্যালক সঞ্জয় সূত্রধরের সহযোগিতায় শিশুটিকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে।

এ সময় শিশুটির আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে তাঁরা পালিয়ে যায়।

পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন মাতবর সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন যুবককে পলাশের শ্বশুরের কাছে পাঠান। সেখানে উপস্থিত মাতবররা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পলাশের শ্বশুর অমৃতর কাছে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে অমৃত আশপাশের বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে স্থানীয় এক মাতবরের হাতে ৪০ হাজার টাকা দিলে তাঁরা সকলেই চলে আসেন।

গত মঙ্গলবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে পলাশ ও সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করেন।

বুধবার শিশুটির বাবা মির্জাপুর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শিশুটিকে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়েছে বলে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম জানিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা জেলহাজতে রয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-