মির্জাপুরে শতাধিক শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে না পারায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শতাধিক শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থপ্রাপ্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে ওইসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুরে ৫৪টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী মেধা (ট্যালেন্টপুল) ও সাধারণ বৃত্তি পেয়ে থাকে। যারা আগে বৃত্তির টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখা থেকে পেত। কিন্তু গত ১৩ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজের নামে ব্যাংক হিসাবে খুলে তাতে অর্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য গত ২০ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য দিতে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উপজেলার শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে ব্যর্থ হয়। এতে তাদের বৃত্তির অর্থ প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সৌরভের নানা আবু সাঈদ জানান, নাতির নামে তারা ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেননি। বিষয়টি তারা জানতেন না।

বিদ্যালয়টির এক সূত্র জানান, গত বুধবার এ সংক্রান্ত চিঠি পায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা বৃহস্পতিবার নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়। আর শেষ সময় ছিল গত সোমবার।

প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো যায়নি। তারা ঠিকমত বিদ্যালয়ে আসে না। তবে তাদের সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। সরকার সময় বাড়ালে তাদের তালিকা পাঠানো হবে।’

রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৫৭ জন বৃত্তিপ্রাপ্তের মধ্যে ৫২ জন হিসাব খুলেছে। বাদপড়া পাঁচজনের তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, যারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত যায় না তারা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেনি। সময় বৃদ্ধি করা হলে বাদপড়াদের তথ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-