মির্জাপুরে মামলা নেওয়ায় পুলিশকে হুমকির অভিযোগ!

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে মির্জাপুর উপজেলার রোয়াইল গ্রামের একটি পরিবার স্থানীয় থানায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ নেওয়ায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার অনুসারীরা থানায় ঢুকে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রভাবশালী ওই নেতা ও তার অনুসারীদের চাপের মুখে অভিযোগপত্র রেকর্ড ভুক্ত না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদি ও তার পরিবার।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং মামলার বাদি মো. সোলাইমান অভিযোগ করে বলেন, তিনি রোয়াইল দক্ষিণপাড়া বাজারের হাজী মার্কেটে মা সেনেটারী দোকানে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা করছেন।

পাশাপাশি তিনি তার পিতার দেওয়া ওয়াকফকৃত জমিতে রোয়াইল দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য দলীয় প্রভাব বিস্তার করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ও উত্তর রোয়াইল গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. আব্দুল মোমেন।

এতে ব্যর্থ হয়ে মো. আব্দুল মোমেন তার সহযোগী আব্দুল বারেক দেওয়ান, কামাল দেওয়ান, ফিরোজ, মামুন সিকদার, আব্দুল জলিল দেওয়ান, শামসুল দেওয়ান, ফরহাদ খান ও সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে গত ১১ ডিসেম্বর মা সেনেটারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যবসায়ী সোলাইমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চাঁদা না দিলে দোকানপাট লুটপাটসহ তাকে খুন করে লাশ গুম করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

চাঁদাবাজদের ভয়ে এলাকার মাতাব্বররা ন্যায় বিচার করতে পারেনি। নিরুপায় হয়ে মো. সোলাইমান গত ১৪ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মোমেনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রুবেল হোসেন ও এসআই মো. ফয়েজ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ তদন্তে গিয়েছে এই খবর পেয়ে প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা আব্দুল মোমেনের অনুসারীরা মির্জাপুর থানায় ঢুকে পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা ভাবে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মোমেন জানান, মামলার বাদির সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ইতোপূর্বেও একাধিক মামলা হয়েছে। ঘটনার দিন তিনি এলাকায়ও ছিলেন না।

তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাদি তাকে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রুবেল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবার বাদি হয়ে আব্দুল মোমেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঘটনার তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছেন। মিমাংসা না হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email