মির্জাপুরে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ আ.লীগ নেতার!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজন বৃদ্ধার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাদেক হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা সোমবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হালিমা (৭০), আতেফন (৭০), কমলা (৬২), উজলা বেগম (৬৭) ও কদ ভানুদের (৮০) করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ বৎসরের অধিক সময় পূর্বে ৩ মাসের মধ্যে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার আশ্বাস দিয়ে লাল মিয়ার স্ত্রী জনৈক কদ ভানু নামের এক নারীর মাধ্যমে জনপ্রতি ৫ হাজার করে টাকা নেয় অভিযুক্ত সাদেক আলী। কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরোলেও তাদের কার্ড দেয়া হয়নি।

কার্ডের কথা বলে মোট ৭ জনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিলেও পরবর্তীতে ২ জনের টাকা ফিরিয়ে দেয় বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অবহিত করেও কোন সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন ভাতা প্রত্যাশী উজলার মেয়ে নিলুফা বেগম।

ভাতা প্রত্যাশী হালিমার বোন সলিমন জানান, তার বোনের ভাতার কার্ডের ব্যাপারে তিনিই টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এতদিন পার হলেও ভাতার কার্ডও পাচ্ছি না বা টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। টাকা কিংবা কার্ডের ব্যাপারে কথা বলতে গেলেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় সাদেক।

স্থানীয় দৌলত হোসেন বলেন, সাদেক বেশ কয়েকবার তাকে জিম্মা করে কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কথা রাখেনি সে।

এ ব্যাপারে সাদেক আলী মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি মেম্বারও না চেয়ারম্যানও না। তবে রাজনীতি করি বলে অনেকেই বিভিন্ন কাজে সহায়তা চাইতে আসে। কিন্তু আমি ভাতার কার্ডের ব্যাপারে কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি!

আনাইতারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাদেক ভাতার কার্ডের ব্যাপারে কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। তবে অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের তিনি যতদ্রুত সম্ভব কার্ডের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য সাদেক আলী চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু “ভাতা কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার একটি অভিযোগ” পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অতি শীঘ্রই তদন্ত করে আগামী উপজেলা পরিষদ মিটিংএ উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

Views