মির্জাপুরে বন্যায় দুর্ভোগ, মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দেয়ার আকুতি মেয়ের

বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর ওপর নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক মানুষ। সেতুর মুখে পলিথিনের ছাউনিতে খাট পেতে শুয়ে আছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা আয়না খাতুন। ভয়াবহ বন্যায় অন্য সবার মতো তাকেও আশ্রয় নিতে হয়েছে এখানে।

পরিবারের সদস্য বলতে একমাত্র মেয়ে আছে আয়নার। বৃদ্ধার ছাউনি থেকে সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা মেলে মেয়ে কবিতা বেগমের (৪৫) সঙ্গে। তিনিও একটা পলিথিনের ছাউনি তুলে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

কবিতার একটা সংসার আছে। সেই সংসারের অবস্থাও বেশি ভালো নয়। স্বামী কাঠের তৈরি ঠেলাগাড়িতে শরবত বিক্রি করেন। ওই ব্যবসা কেবল গ্রীষ্মকালেই ভালো চলে। অন্য সময় ভিন্ন কাজ খুঁজে নিতে হয় তার। সংসারের ছন্দপতন হয় মহামারি করোনায়। আর এখন বন্যায় তাদের অবস্থা আরও খারাপ।

গত কয়েক মাস ধরে কাজ নেই কবিতার স্বামীর। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মা আয়না খাতুনও এই সংসারের সদস্য। মায়ের ওষুধপত্রসহ সব নিয়ে অনেক টাকা খরচ হয় মাস শেষে। অভাবের সংসারে এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ঝগড়া হয় স্বামীর সঙ্গে। কীভাবে বৃদ্ধা মাকে টানতে হবে জানা নেই কবিতার।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর ওপর নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নেওয়া কবিতা বেগম জানান, তিনি ছাড়া তার মাকে দেখার আর কেউ নেই। এখানে সবার ঘরেই অভাব। তারপরেও কেউ সকালে খেতে দেয়, কেউ রাতে। এভাবেই তার মাকে খাওয়ানো হয়।

এদিকে আয়না খাতুনের শরীরের একাংশ প্যারালাইজড হয়েছে। চোখে-মুখে হতাশা নিয়ে কবিতা বলেন, ‘মেলা ডাক্তার দেখাইছি, কাম হয় নাই। আমি তো অনেক দিন ধইরা টানতাছি আর পারতাছি না। ওই বুড়ির জন্য আমার সংসারে অশান্তি লেগে থাকে। আমারওতো অভাব, আমি আর কত টানুম। এই যে বন্যা গেলে, করোনা গেলে, কিন্তু কোনো সাহায্য সে পাইল না। ত্রাণতো আহে, আমরা পাই না। একবার খাইলে আরেকবার না খাইয়া থাকি, কেউ সাহায্য করে না।’

‘আমি না খাইয়া থাকতে পারুম কিন্তু বুড়ি তো পারব না। আপনার মাধ্যমে আমি অনুরোধ করি, কেউ একটা ব্যবস্থা করে দিক। আমার মায়রে বৃদ্ধাশ্রমে দেন। তাতে সেও শান্তি পাবে, আমিও রক্ষা পাব। আর ভালো লাগে না।’

(শেখ নাসির উদ্দিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email