মির্জাপুরে ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে কৃষকদের মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা চরপাড়া গ্রামে তিন ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে এলাকাবাসীর মানবন্ধন হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে পাকুল্যা চরপাড়ায় সরিষা ক্ষেতে শত শত কৃষক মাটি ব্যবসায়ি ও ভাটা মালিকদের হাত থেকে ফসলি জমি বাঁচাতে এলাকাবাসী মানবন্ধন করে।

সরজমিনে দেখা যায়, পাকুল্যা চরপাড়ায় ৩ ফসলি আবাদী জমির পশ্চিমাংশের প্রায় ৫ একর জমিতে কয়েক বছর যাবত মাটি ব্যবসায়িরা ভেকু বসিয়ে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে আবাদ অনুপযোগি করে ফেলেছে। ফসলি জমি হারিয়ে শত শত কৃষক মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের ওই জমিগুলোতে চৈত্র মাস অবধি পানি থাকার কারণে কোন প্রকার চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়িদের নজর পড়েছে পূর্বাংশের প্রায় ১০ এক জমিতে। তারা ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষকরা ওই জমি রক্ষার্থে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে কোন বিচার পাচ্ছে না। উপরন্তু ব্রিক ফিল্ড মালিক ও মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকী দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবু সাইদ মিয়া (৭০), এছাক মিয়া (৭০), ছানোয়ার হোসেন (৬৫), চাঁন খা (৬৫), প্রতিবন্ধী কাদের মিয়া (৬০), গিয়াস উদ্দিন (৫০), রবি (৬০), বিলাত আলী (৭৫), মতি (৭০), শওকত (৫৫), কদ্দুছ (৫৫), নুরুল ইসলাম (৫২) সহ অনেকেই জানান উচ্চ মূল্যের লোভ দেখিয়ে প্রথমে দু-একজন কৃষকের নিকট থেকে জমির মাটি ক্রয় করে অনেক গভীর পর্যন্ত গর্ত করে মাটি খনন করে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ধ্বসে আবাদের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। উপায়ন্তর না পেয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মাটি বিক্রী করতে বাধ্য হয়।

এর ফলে এ গ্রামের শতাধিক কৃষক মাটি ব্যবসায়িদের কবল থেকে রক্ষা পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সরিষাক্ষেতে মানবন্ধন করে।

মাটি ব্যবসায়ি মুক্তার আলী খান বলেন, আমরা উপযুক্ত মূল্য দিয়ে জমির মালিকদের নিকট থেকে মাটি ক্রয় করি। এতে দোষের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।

এ বিষয়ে মির্জাপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হক এর মুঠোফোনে (০১৭১৪-৫০৫৭৩৭) বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(ইমরুল হাসান বাবু, ঘাটাইলডটকম)/-