মির্জাপুরে ধর্ষক আটক; ওসি’র অজ্ঞাতসারে মিমাংসার চেষ্টা!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র অজ্ঞাতসারে ধর্ষণ মামলা মিমাসাংর চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলো- মির্জাপুর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আজিম মিয়া ওরফে শিমুলকে (২৮) আটকের ১৪ ঘন্টা পর মামলা হয়েছে। আর এই ১৪ ঘন্টা থানা হাজতে শিমুলকে আটকে রেখে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) বিজয় দেবনাথ ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেনে আলোচনা চালিয়েছেন বিষয়টি মিমাংসার জন্য। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান বিষয়টি জানতেন না বলে জানা গেছে। ওসি জানার পর এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের পাহাড়পুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে শিমুলের সঙ্গে একই গ্রামের কলেজ পড়–য়া এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ের প্রলোভনে তিনি তাকে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতেন। কিন্তু এক সপ্তাহে আগে ধর্ষিতার অজান্তে শিমুল অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে কৌশলে শিমুল ধর্ষিতাদের ঘরে ঢুকেন। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে শিমুলকে এসআই বিজয় দেবনাথ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

পরে এ ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও এসআই বিজয় দেবনাথ নানাভাবে তালবাহানা করেন।

বিষয়টি রাত সাড়ে সাতটার দিকে ধর্ষিতা, তার ভাই ও বাবা মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। ধর্ষিতা মেয়েটি তাকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান। পুলিশের কাছে গিয়েও তাদের লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা পুনরায় থানায় যান। সেখানে পুলিশের কাছে ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা করতে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেন। বাবা ও ভাই সহ থানার ওয়ারলেস অপারেটর মাহামুদুল হাসানের কাছে গিয়ে মামলা লেখাতে চান। তখন পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ধর্ষিতার ভাইয়ের শার্টের কলার ধরে টেনে তার কক্ষে নিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে বের করে দেন।

অপরদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে ওসি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদ উপলক্ষে দায়িত্ব পালন শেষে থানায় তার কক্ষে বসেন। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে ধর্ষণের ঘটনায় এক অভিযুক্ত আটকের বিষয়টি তিনি জানতে পেরে হতবাক হন। পুরো ঘটনা জানার পর তার নির্দেশে থানায় মামলা হয়।

মাহামুদুল হাসান জানান, ধর্ষিতার ভাইয়ের মুঠোফোন পরিদর্শক নিয়েছিলেন। তবে তিনি কলারে ধরেননি।

এসআই বিজয় দেবনাথ বলেন, তিনি রাতে ডিউটি করে আসামিকে আটকের পরের দিন আমার ডিউটি ছিল না, আমি ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বিষয়টি পরিদর্শককে (তদন্ত) জানিয়েছিলেন। ওসি তার ওপর রাগ করার বিষয়ে বলেন ‘এটা ইন্টারনাল ব্যাপার।

পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। ওসি জানার পর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হন ধর্ষিতা নিজেই। ঘটনায় অভিযুক্ত শিমুলকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার টাঙ্গাইলের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে ও ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, না জানানোর জন্য ওই অফিসার ক্ষমা চেয়েছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-