মির্জাপুরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ

একদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। এক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেই হানা দিয়েছে আরেক বিপর্যয়। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। এতে করে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে বানভাসি মানুষের জনজীবন।

এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় উপজেলার বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু বন্যার পানি কমার সাথে সাথে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় বংশাই নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ বসতভিটা। এমনকি ভাঙ্গন কবলিত এলাকার আলহাজ একাব্বর হোসেন সেতু (বংশাই ব্রিজ) ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পৌর এলাকার সওদাগরপাড়া এবং বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের উত্তরপাড়ার বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাছপালা ভাঙ্গন কবলিত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সওদারগরপাড়ায় নিম্ন আয়ের প্রায় ৩০০টি পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র ও ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি বছরের বন্যায় এই পাড়ার প্রায় সব ঘরেই বন্যার পানি প্রবেশ করে বাড়ি নিমজ্জিত হয়। ফলে প্রায় শতাধিক পরিবার পার্শ্ববর্তী সেতুর ওপর পলিথিনের তৈরি ছাউনি দিয়ে আশ্রয় নেয়।

সম্প্রতি বন্যার পানি আংশিক বাড়ি থেকে নেমে গেলেও নদী ভাঙ্গনে নতুন করে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে অসহায় এসব পরিবার। এমতাবস্থায় বন্যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া মানবেতর জীবনযাপনকারী মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, গত বছর ২ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম মির্জাপুর সফরে এসে উপজেলার বংশাই ও ঝিনাই নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই সময় উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, সরকার মির্জাপুরের নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জন্য ডিপিটি প্রকল্প ও বংশাই নদীতে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া বেশি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় দ্রুত ডাম্পিং করার নির্দেশনা দেন। এরপর ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কয়েকটি স্থানে জিওজি ব্যাগ ফেলে নাম মাত্র কাজ করা হলেও ভাঙ্গন রোধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একা বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওই সব এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অসাধু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। প্রতি বছর পানি কমার সাথে সাথে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ২০/২৫টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকে। এ কারণে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-