মির্জাপুরে টয়লেটের দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট এবং বেসিন ব্যবহারে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শরফুননেছা খানম ও পরিচালনা পরিষদের উদাসীনতায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব টয়লেট ও বেসিন ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট যেন পুরো বিদ্যালয়ের পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পুষ্টকামুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পর্যায়ক্রমে মডেল স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬১২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এ ছাড়া ভর্তি চলমান। মডেল স্কুলটিতে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নানা সমস্যার পাশাপশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতেও রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কয়েক বছর পূর্বে বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মিত হয়। সেইসাথে নির্মিত হয় স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে যে, বিদ্যালয়ে ঢুকতেই প্রধান ফটকের সামনে ময়লার স্তুপ থাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধে নাক মুখ চেপে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দুর্গন্ধযুক্ত অস্বাস্থ্যকর টয়লেট এবং নোংরা বেসিন ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। টয়লেট ও বেসিনের পানি বারান্দার শ্রেণি কক্ষে আসায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে বারটায় বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষাথীরা বলে, বেসিন ও টয়লেটে দুর্গন্ধ রয়েছে। নিয়মিত পরিস্কার করা হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শরফুননেছা খানমের উদাসীনতায় বিদ্যালয়ের টয়লেট ও বেসিনের এমন অবস্থা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শরফুননেছা খানমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার টয়লেট ও বেসিন পরিস্কার করা হয়। বারান্দার শ্রেণিকক্ষে নোংরা পানি আসার বিষয়ে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের পাইপ উপরে মোটা ও নিচে চিকন থাকায় এ অবস্থা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-