মির্জাপুরে ছেয়ে গেছে মাদক, বেড়েছে চুরি ছিনতাই

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর মাদকে ছেয়ে গেছে। বেড়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মত ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। ঈদের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সরকারি কোয়াটারে গণ হারে চুরি হয়েছে। চুরির কবলে পড়েছে দৈনিক ইত্তেফাক ও মোহনা টেলিভিশনের সংবাদদাতা মীর আনোয়ার হোসেন টুটুলের বাসাও। ছয়তলা ভবনের ৫ তলার এক ইউনিটের ও দোতলার একটি ইউনিটের দুই ভাড়াটিয়ার বাসায় দিবালোকে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে।

পুলিশকে ঘটনাটি জানানোর পর এখন পর্যন্ত জড়িত কেউ আটক ও মালামাল উদ্ধার যায়নি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে মাদক ব্যবসাসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ গরু চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাড়া মহল্লায় পাল্লা দিয়ে মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। একই অবস্থা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মির্জাপুর সাহাপাড়া, বাবু বাজার সংলগ্ন একটি বেসরকারী এনজিও শান্তিপ্রিয় সংস্থা, আন্ধরা, মুসলিমপাড়া, সরিষাদাইর, বাবু বাজার ও এর আশপাশ, ঘোষপাড়া, পাহাড়পুর, বাইমহাটি, পালপাড়া, পুষ্টকামুরী, বাওয়ার কুমারজানি, গাড়াইল, গোড়াইল, মির্জাপুর পুরাতন বাস স্টেশন, কাঁচাবাজার, ইউনিয়নপাড়া, আমজাদ হোসেন রোড, কলেজ রোড, মির্জাপুর থানা সংলগ্ন এলাকার। এর আশপাশসহ ৩০-৪০টি স্পটে দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত মাদকের ব্যবসা চলে আসছে।

এসব মাদকের আখড়ায় ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও মদসহ মাদকের জমজমাট ব্যবসা চলে আসছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন। মাদকের ব্যাপক প্রসার বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় চুরি, ডাকাতি, গরু চুরি ও ছিনতাইসহ আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকজন প্রশাসনকে একাধিক অভিযোগ করেও মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মী। পুলিশের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। মির্জাপুর পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় সন্ধ্যার পর পরই এক ল্যাংড়াকে দিয়ে হুইল চেয়ারে করে ফেরি করে মদ, গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিল বিক্রি করাচ্ছেন প্রভাবশালী চক্রটি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এদের কাছে অসহায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদকের বিস্তার থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজ শুরু করেছি। সবার সহযোগিতা পেলে অবশ্যই মির্জাপুর থেকে মাদককে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, মাদক একটি সামাজিক অপরাধ। মাদক থেকে রক্ষার জন্য আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-