মির্জাপুরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর মামলায় কনস্টেবল ও সোর্স দণ্ডিত

এক দিনমজুরের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টার দায়ে পুলিশের এক কনস্টেবল ও এক সোর্সের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁদের মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল রাসেলুজ্জামানকে দেড় বছরের এবং সোর্স হাসান মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপন কুমার দাশ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন।

রাসেলুজ্জামান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোজাটি চরপাড়া গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে। হাসান মিয়া মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল নয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজন উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক, তিন কনস্টেবল ও অপর এক সোর্সকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বাঁশতৈল ফাঁড়ির সাবেক উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল চন্দ্র সাহা, তোজাম্মেল হক ও আবদুল হালিম এবং সোর্স আল আমিন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দণ্ডিত কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান, সোর্স হাসান মিয়াসহ মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের আরও চার সদস্য এবং এক সোর্স গত বছরের ২৮ নভেম্বর পাশের সখীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় যান। তাঁরা ওই এলাকার বজলুর রহমান নামের এক দিনমজুরের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে জোর করে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলেন। বজলুরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি আটক করেন।

বজলুরের কাছ থেকে ঘটনা শুনে উপস্থিত লোকজন পুলিশ ও সোর্সদের তল্লাশি করে কিছু ইয়াবা পান। এরপর সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ ও সোর্সদের পিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সখীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এর আগেই তিনজন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে চারজনকে পুলিশ সখীপুর থানায় নিয়ে যায়। সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আয়নুল হক বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক ওমর ফারুক গত ২ জানুয়ারি আদালতে পুলিশের পাঁচ সদস্য, দুই সোর্সসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email