মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় সখীপুরে তিন বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল হওয়া এক ব্যক্তির পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে তিন বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

যে তিনজনের ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে তাঁরা হলেন উপজেলার মহানন্দপুর গ্রামের আবদুর রশিদ ভূঁইয়া, বড়চওনা গ্রামের ইয়ার মাহমুদ ও একই গ্রামের আবদুল হান্নান।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের গাজী আবদুল কাদের মিয়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। বছরখানেক আগে জমিসংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে আবদুল কাদেরের ওপর তাঁর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. বছির মিয়া ও তাঁর লোকজন হামলা করেন।

এ ঘটনায় দুই পক্ষ সখীপুর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও করেন। মাস ছয়েক আগে গাজী আবদুল কাদের মিয়া তাঁর বড় ভাই মো. আ. বছির মিয়া মুক্তিযোদ্ধা নন বলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জামুকার চেয়ারম্যান গত ২২ সেপ্টেম্বর ও ২৯ সেপ্টেম্বর বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে ভাতা বন্ধ হওয়া ওই তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. বছিরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

তদন্ত কমিটি মো. আ. বছিরের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ ভূঁইয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়ার মাহমুদের তিন মাসের ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নানের দুই মাসের সম্মানী ভাতা বন্ধ করার সুপারিশ করেন।

মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল হওয়া মো. আ. বছির মিয়া নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের কারণে আমার মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হয়েছে বলে শুনেছি। আমি এ বিষয়ে আপিল করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার চিত্রা শিকারী বলেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা দুজনের তিন মাস করে ও একজনের দুই মাস বন্ধ রাখার চিঠি তিনি পেয়েছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email