মায়ের মামলায় সাজাভুক্ত আসামী দেলদুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী!

0Shares

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় নিজ মায়ের টাকা আত্মাসাৎ’র অভিযোগে মায়ের করা মামলায় সাজাভুক্ত আসামী টাঙ্গাইল দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের নাম রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে তার নাম তালিকার এক নম্বরে রেখে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী ধাপের জন্য স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বাকি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চুরান্ত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।

এব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী তালিকায় তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মায়ের করা মামলায় জেলখাটার অভিযোগ রয়েছে জানতে তিনি তা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে তার মায়ের করা মামলা ছিল। আরও কোন মামলা আছে কি না জানি না।

যে সন্তানের বিরুদ্ধে নিজের মা অর্থ আত্মসাৎ’র মামলা করেন এবং সেই মামলায় যার সাজা হয়, সেই ব্যক্তিকে জনপ্রিতিনিধি হিসাবে কিভাবে এক নম্বরে নাম পাঠান জানতে চাইলে কোন কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

মামলার কপি থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেলদুয়ার উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার নিম্ন আদালতে করা মায়ের মামলা নং-১৮৫৫ এবং মামলার স্বাক্ষী ছিল ৮জন। মামলার বাদী ছিলেন। ফিরোজা বেগম। ফিরোজা বেগম ছেলের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎতের মামলা করেন।

এছাড়াও টেস্ট রিলিফের টাকা নিজের একাউন্টে নেওয়ার অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কপি থেকে জানা যায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কর্তৃক প্রদত্ত ১৮টি টিআর, প্রকল্পের বিপরীতে ১৬লাখ টাকা এবং কাবিটা (নগদ অর্থ) প্রকল্পের ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৯টাকার বিপরীতে ৪টি প্রকল্পসহ মোট ২২টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৭ জুন ২০১৬ সালে মোট ২৯ লাখ ১৭হাজার৮৫৯ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। উক্ত প্রকল্পের অর্থ ছাড়পত্র প্রদানের সর্বশেষ তারিখ ছিল ২৮-০৬-২০১৬। বিধি মোতাবেক উক্ত তারিখে প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যেকটি প্রকল্প কমিটির বরাবরে পৃথকভাবে অত্র দপ্তর হইতে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ অগ্রিম ছাড় করি।

দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ওনার মা মামলা করেছিল। মামলা করার কারণে ওনি হাজতে ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলখানায় ছিলেন। পরবর্তীতে ওনার মাকে আমরাই নিজেরাই বুঝিয়ে-সুজিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়াবেন বলে মামলা তুলে নিতে রাজি করি।

তবে তখন ওনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ছিলেন না, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ওনার মা পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে বলেছিল আমার ছেলেকে জামিন দিলে আমার কোন আপত্তি নাই। এই স্বাকীকারোক্তি দেওয়ার পরে ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়েছিল।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী কেন্দ্রে তিন জনের নাম পাঠানো হয়েছে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, আমি ৩৬ বছর যাবৎ দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছি। ওনাকে (শিবলী সাদিক) ২০১৫ সালে সেক্রেটারি বানিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রকাশে অনিচ্ছুক দেলদুয়ার উপজেলার এক নেতা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ শিবলী সাদিকের নাম এক নম্বরে পাঠানো হয়, আর সভাপতি ফজলুল হকের নাম পাঠানো হয় দুই নম্বরে এবং তৃতীয় নম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহুমুদুল হাসান মারুফের নাম পাঠানো হয়। এছাড়াও তারানা হালিম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তখন টেস্ট রিলিফের ২৭ লাখ টাকা নিজের একাউন্টে নিয়ে আত্মাসাৎ করেছিল যা পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে প্রমাণিত হয় বলেও জানান নেতারা।

এবিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলার ৪ নং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেনও ঘটনার মামলার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বিস্তারিত কিছু বলতে অপরাগতা জানান।

এদিকে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে কেন্দ্রে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারন সম্পাদক এম শিবলী সাদিক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ। এ উপজেলায় বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এস এম ফেরদৌস আহমেদ।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-