মামলা তুলে না নেয়ায় সখীপুরে নৃত্যশিল্পীকে উলঙ্গ করে মারধর

মামলা তুলে না নেয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সুমন আমমেদ নামে এক নৃত্যশিল্পীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার জামতলা এলাকার কাহারতা নিজ বাসার সামনে থেকে সুমনকে তুলে বনের ভেতরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এরপর চোখ-মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তার মাথার চুল কেটে এবং মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার সুমন আমমেদ জানান, বুধবার রাতে সখীপুরের বাসার সামনে থেকে চোখ-মুখ বাঁধা পাঁচ-ছয়জন লোক তাকে তুলে বনের ভেতের নিয়ে যায়। এ সময় বৃহস্পতিবারের মধ্যে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় তারা। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় কালা শরীফ, সুপ্তসহ পাঁচ-ছয়জন তাকে মারধর করে। তাদের মধ্যে একজন মাথায় প্রস্রাব করে দেয়।

অন্যজন কাঁচি ও ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল এলোমেলো করে কেটে ও তার মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়। পরে রাতে তাকে বাড়ির সামনে এসে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

তিনি বলেন, আমাকে বারবার উলঙ্গ করে কালা শরীফ, সুপ্তসহ সন্ত্রাসীরা মারধর করেছে। মারধরের পর কালা শরীফ, সুপ্তসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সখীপুর থানার ওসি মো. আমির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৬ আগস্ট বাড়িতে যাওয়ার সময় সখীপুর জামতলা এলাকায় তিন মোটরসাইকেল নিয়ে সুমন আহমেদের গতিরোধ করে আসামিরা। পরে প্রধান আসামি কালা শরীফের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সুমন আহমেদকে মোটরসাইকেলে তুলে জামতলা লিচু বাগানে নিয়ে যায়।

সেখানে আসামিরা সুমন আহমেদকে কিল-ঘুষি, চড়থাপ্পড় ও লাথি মারে। এরপর জোর করে তার শরীরের সব কাপড়-চোপড় খুলে নাচতে বলে। নাচতে রাজি না হওয়ায় সুমনকে মারধর করে।

সুমন আহমেদ আসামিদের কাছে ক্ষমা চাইলে আরো বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এক সময় বাধ্য হয়ে তাদের কথামতো সুমন নাচতে শুরু করলে আসামিরা নাচের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মামলা করেন সুমন।

আসামিরা হলেন- উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামের জলিল তালুকদারের ছেলে কালা শরীফ, সখিপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে প্রিন্স মাহমুদ, কালীদাস গ্রামের মো. হাসিব মিয়া, সফি মিয়ার ছেলে সুপ্ত, মো. মামুন মিয়া। মামলার পর প্রিন্স ও মামুন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-