মধুপুরে সালিশে জরিমানার টাকা ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে!

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ভেকু চালক ও এক কিশোরীর প্রেমঘটিত সালিশের ২৫ হাজার টাকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাতব্বররা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে!

এলাকাবাসী জানায়, মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আজাহার মিয়ার পুকুর খনন করতে একই উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের জাহিদ হাসান(৩৫) ভেকু নিয়ে কাজ করতে আসেন। পুকুর খননের এক পর্যায়ে পাশের বাড়ির এক কিশোরীর সাথে ভেকু চালক জাহিদ হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে গত ১৩ মে(বুধবার) রাতে ওই কিশোরী ও জাহিদ হাসানকে প্রেমলীলায় মত্ত থাকাবস্থায় স্থানীয় যুবকরা তাদের আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য চান মিয়া প্রেমিক জুটিকে তার হেফাজতে নিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে সালিশের আয়োজন করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য চান মিয়ার বাড়িতে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশে ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় মাতব্বর আজগর আলী, মঞ্জুরুল হক কালু, আজাহার মিয়া, ইউপি সদস্য চান মিয়া প্রমুখ অংশ নেন।

সালিশে ভেকু চালক জাহিদ হাসান ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে অপরাধে জড়িত করার অপরাধে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ওই কিশোরীর নানা আব্দুল কাদেরের হাতে ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। বাকি ২৫ হাজার টাকা বিবিধ খরচ দেখানো হয়।

শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বলেন, কিশোরীর পরিবার অত্যন্ত নিরীহ। তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সালিশে জাহিদ হাসানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার ৪৫ হাজার টাকা কিশোরীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ হাজার টাকা প্রশাসন সহ বিবিধ খরচ হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারিক কামাল জানান, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। সালিশের বিষয়টিও তিনি অবগত নন। তবে কেউ অভিযোগ করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-