মধুপুরে রেখা জুয়েলার্সে ডাকাতির ৬ মাস পরে ৪ ডাকাত আটক

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে সন্ধ্যা রাতে নিউ রেখা জুয়েলার্সে ককটেল ফাটিয়ে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার দীর্ঘ ৬ মাস পর পুলিশ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে (৬ জানুয়ারি ) ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মালিকসহ দুজনকে আহত করে স্বর্ণলঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটে নেয় ডাকাতদল।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আটককৃত ডাকাদলসহ ঘটনাস্থল পৌর শহরের সাথী সিনেমা হল রোডের নিউ রেখা জুয়েলার্সের সামনে গণমাধ্যমকর্মিদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার কামরান হোসেন।

২২ জুলাই রাত থেকে গাজীপুরে দীর্ঘ ২২ঘন্টার অপারেশনে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তারা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- শেরপুর নালিতাবাড়ির নুর ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩০), টঙ্গি পশ্চিম থানার সাতাইশ চৌরাস্তার সামছুল হকের ছেলে রিপন মিয়া (৩৪), জামালপুর জেলার মেলান্দহের মো. সিরাজের ছেলে রুবেল(২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরার সেনেরচরের সুলতানের ছেলে তপন (২৪)।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং দোকান মালিক দুর্লভ কুমার জানান, ককটেল ফাটিয়ে আতংক তৈরি করে গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা ৪৩ মিনিট থেকে মাত্র এক মিনিট ২৩ সেকেন্ডে এ ডাকাতি করে অস্ত্র উচিয়ে তারা লোকজনের সামন দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ক্রেতা সেজে শো-রুমে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে ডিসপ্লে রাখা ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায় ওই ডাকাত দল।

দুর্লভ কর্মকার আরও জানান, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয় ডাকাত দল। যার বাজার মূল্য ছিল ১৬ লাখ টাকার উপরে। তিনি ঘটনার পরের দিন মধুপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

এ নিয়ে এলাকায় বেশ আতঙ্ক ছিল।

ঘটনার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ডাকাত দলকে আটকের জন্য পুলিশের উপরও ছিল বেশ চাপ।

শুক্রবারের ব্রিফিং এ মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, ঘটনার দিন ডাকাতদল ওই জুয়েলার্স থেকে কিছুটা উত্তরে গাড়ি পার্কিং করে পাশে একটি ভাতের হোটেলে খাবার খায়।

সন্ধ্যা ৭.৪২ মিনিটের দিকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানে প্রবেশ করে দোকানদারকে ভয়ভীতি ও মারধর করে মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে মালামাল লুটে নেয়।

দোকান থেকে বেরিয়ে আবার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। উপজেলার কাকরাইদ, গারোবাজার ও ভরাডোবা হয়ে ঢাকার দিকে তারা চলে যায়।

ঘটনার পর থেকেই মধুপুর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আসছে।

স্থানীয় একজনকে গ্রেফতার করে কিছুটা সূত্র পাওয়া যায়।

প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদলের অবস্থান গাজিপুর ট্র্যাক করে গত ২২ জুলাই তার নেতৃত্বে মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল ও ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

দীর্ঘ ২২ঘন্টার অভিযানে ডাকাতদলের চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বেশ আগের ঘটনা তাই সম্পূর্ণ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ডাকাতদল যে দোকানে স্বর্ণলঙ্কার বিক্রি করেছে তা ডিটেক্ট করে আংশিক মালামাল উদ্ধার করা গেছে।

ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আটকের কথাও জানান তিনি। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই বাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে তার সম্পর্কে এখনই কিছু জানাতে চায়নি পুলিশ।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email