মধুপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে ক্ষেতে নেকব্লাস্ট আক্রমণ করছে। এতে ধানের শীষ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। ব্লাস্ট রোগে উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে কৃষকেরা মনে করছেন।

মধুপুরে এখন ৫০ শতাংশ ধানের শীষে সবেমাত্র চাল ধরেছে। এরই মধ্যে, গত শনিবারের শিলা বৃষ্টি আর বাতাসের গতিবেগে ধানের শীষ হেলে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ উপজেলায় ব্লাস্ট রোগে ৫০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধানে সাধারনত তিন ধরনের ব্লাষ্ট হয়ে থাকে। পাতা ব্লাষ্ট, গীট ব্লাষ্ট ও শীষ ব্লাষ্ট। বর্তমানে শীষ ব্লাষ্ট রোগে অাক্রান্ত হয়ে প্রায় পরিপূর্ন ধান, শীষ মরে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এ রোগে ধানের শীষের গোড়ায় কালচে দাগ হয়ে ঐ অংশ পচে যায়, ফলে উপরের দিকে অর্থাৎ শীষে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে পুরো শীষ মরে সাদা হয়ে যায়।

জানা যায়, অন্যান্য এলাকার সাথে মধুপুর উপজেলার প্রায় প্রতি মাঠ/চড়ায় একের পর এক ক্ষেতের ধান মরে যাচ্ছে। কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থের সাথে দেশের উৎপাদন হচ্ছে ব্যাহত। বিশেষ করে বি-অার ২৮ জাতের ধানে এ রোগের অাক্রমন হয়েছে বেশী, অন্যান্য জাতের ধানও অাক্রান্ত হচ্ছে। খুব দ্রুত ছড়ায় এ রোগ। এ রোগ খুব দ্রুত ছড়ায় এবং অাক্রান্ত হলে অতি অল্প সময়েই ক্ষেত শেষ করে ফেলে।

উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের কদিমহাতীল গ্রামের কৃষক শমসের ও লোকমান মন্ডল জানান, মধুপুরে ৫০ শতাংশ ধান নিজের রূপ নিয়ে ফুটে উঠেছে। বাকি ৫০ শতাংশ ধানের শীষে সবেমাত্র পরিপূর্ণ ধানে বেড়ে উঠতে চালছে। ঝড়-বাদলা এবং রোগ বন্ধ না হলে ৫০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, ক্ষেতের পর ক্ষেত এভাবে পোকায় নষ্ট করলেও কৃষি বিভাগ একেবারে উদাসীন।

কদিমহাতীল গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার ১২ শতাংশ জমির ধানের গাছ পুরোটাই শীষ মরে শুকিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ আমাকে কোন প্রকার পরামর্শ দেননি। তাছাড়া ক্ষেতে ঔষুধ ছিটালেও কোনো কাজ করছে না।

চাপড়ি বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা আমির হামজা জানান, অনেক কৃষক ধানক্ষেতে বেশ কয়েকবার করে ওষুধ স্প্রে করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে মধুপুরে ১১ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার ২০২ মেট্রিকটন চাল।

এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, নেকব্লাস্ট প্রতিরোধে আমাদের কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল.কম)/-