মধুপুরে বিদ্যুত লাইন নির্মাণে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

বিদ্যুত লাইন নির্মাণ, ঘর ওয়েরিং, মিটার স্থাপন, ড্রপ তার টানানো ও বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার নামে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দালাল খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে। ভোক্তভুগী এলাকাবাসী এ অভিযোগ তুলেছে।

দালাল খোকন মিয়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের কুড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে একই ইউনিয়নের কাকড়াগুনি গ্রামে।

বিদ্যুত সংযোগ না পেয়ে গ্রামবাসী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুত সংযোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ভোক্তভুগীরা মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মিটার প্রতি জামানত ও সদস্য ফি বাবদ মোট ৪৫০ টাকা সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। এর বাইরে অন্য কোন খরচ হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে ভোক্তভুগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর আওতাধীন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের কাকড়াগুনি গ্রামে বিদ্যুত লাইন নির্মাণসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদনের নিমিত্তে মিটার প্রতি খরচ বাবদ ৮ হাজার ৫‘শত টাকা করে মোট ৭০টি মিটারের বিপরীতে অফিস খরচের কথা বলে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল খোকন মিয়া।

অথচ বছর খানেক আগেই সরকারীভাবে বিদ্যুত লাইন নির্মান হয়ে অন্যান্য কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু মিটার না পেয়ে খোকন মিয়ার কাছে গ্রামবাসী দৌঁড়ঝাপ করেও পাত্তা পাচ্ছে না। উল্টো মিটার প্রতি আরোও ৫‘শত টাকা করে বাড়তি টাকা দাবী করছে বলে জানান ভোক্তভুগীরা।

কাকড়াগুনি গ্রামে আনারসের পাতা ও কলার খোসা থেকে সোনালী আঁশ তৈরীর কারখানা বিদ্যুতের অভাবে জ্বালানি তেল দিয়ে চালাতে গিয়ে মালিক আনোয়ার হোসেন হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিন তার জ্বালানী খরচ কয়েক গুণ বেশি হচ্ছে। তার দাবি দ্রুত বিদ্যুত সংযোগের।

কাকড়াগুনি গ্রামের আকতার হোসেন জানান, তার ২টি মিটারের জন্য বহু কষ্টে হাঁস-মুরগী ও ছাগল বিক্রি করে ১৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। এখন সংযোগ দিচ্ছে না। সংযোগ দিতে আরও টাকা দাবী করছেন।

একই এলাকার নাজিম ম্রং জানান, ধারদেনা করে তার একটি মিটারের জন্য ৮ হাজার ৫‘শত টাকা দিয়েছেন। এক দেড় বছর পার হয়ে গেলেও মিটার পাচ্ছেন না।

জিপেন ম্রং জানান, ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন ২ মিটারের জন্য। সব কাজ শেষ হলেও বাড়তি টাকা না দেয়ায় মিটার পাচ্ছে না।

আন্তনী মাজি জানান, ৩টি মিটারের জন্য তিনি ২৬ হাজার ৫ ‘শত টাকা দিয়েছেন। এভাবে ৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৪ লক্ষাধিক টাকা নিয়েও বিদ্যুত সংযোগের নামে টাকা হজম করে বসে আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, ঘটনাটি শুনেছি। খোকন বিদ্যুত অফিসে ঘুরাঘুরি করে। যদি প্রকৃত পক্ষে এমনটা হয়ে থাকে তাহলে এর বিচার দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খোকন মিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। অফিসে কিছু খরচপত্র দিতে হয়। অথচ সেটা দিতে গরিমশি করছে গ্রাহকরা। ফলে অফিসিয়াল কাজকর্ম শেষ না হওয়ার কারণে সংযোগ পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর মধুপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী বিপ্লব চন্দ্র সরকার জানান, গ্রাহকরা আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন না। তারা সকল প্রকার যোগাযোগ ও লেনদেন করেন দালালের মাধ্যমে। অফিসে এখনো তাদের জামানতের ও সদস্য ফি এর টাকা জমা হয়নি। সরাসরি গ্রাহকরা অফিসে যোগাযোগ করে সরকার নির্ধারিত জামানতের ৪‘শত টাকা এবং সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা জমা দিলেই সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা জানান, তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(আব্দুল্লাহ আবু এহসান, ঘাটাইল ডট কম)/-