মধুপুরে নতুন তেল ফসল পেরিলার চাষ শুরু

পেরিলা নতুন জাতের একটি ভোজ্যতেল ফসল। সয়াবিন সরিষার মতো পেরিলার বীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপন্ন হয়।

পেরিলার আদি নিবাস চীন হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় এর ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে বিশ্ব দরবারে এটি কোরিয়ান পেরিলা নামে পরিচিত।

কোরিয়ায় চাষ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিস্তৃতি ঘটেছে জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে।

সম্প্রতি বাংলাদেশেও বিভিন্ন জায়গায় পেরিলার চাষ শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো পেরিলার চাষ শুরু করলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আউশনারা কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান জুয়েল।

বাংলাদেশে পেরিলার চাষাবাদ পদ্ধতি ও বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কৃষিবিজ্ঞানী ড. আ.ফ.ম জামাল উদ্দিন ও তেলফসল পেরিলার উপর গবেষণা করা কৃষি অফিসার কাইয়ুম বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মধুপুরের আউশনারা গ্রামে কৃষিবিদ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েলের হাতে পেরিলার চারা তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসান তাপসসহ স্থানীয় অনেকেই।

এ সময় মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় আমরাই প্রথম এ ফসল চাষ করতে যাচ্ছি। এই ফসলের শতকরা ৬৫ ভাগই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরিষা ছাড়া নিজস্ব কোন ভোজ্যতেল ফসল নেই। সয়াবিনসহ অন্যান্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তাই আমরা পেরিলার চাষ শুরু করলাম। যাতে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১২০ দিনের মধ্যে এই ফসল ঘরে তুলা সম্ভব। সেই দিক থেকে জমিতে একাধিক ফসল করাও যায়। তাই জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিককে গুরুত্ব দিয়ে এই ফসল চাষ শুরু করেছি। ১৬টা জেলায় চারা দেয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আমরাই প্রথম শুরু করলাম।

এটি যদি দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্যের সহযোগী ও লাভজনক হিসেবে চাষাবাদ করতে পারি তাহলে একজন কৃষিবিদ হিসেবে নিজে অনেকটা তৃপ্তি পাবো। পেরিলা দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সুস্থ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করি।

(তরিকুল ইসলাম রুবেল, ঘাটাইল ডট কম)/-