মধুপুরে দোখলা-ধরাটি সড়ক কাঁচা, ১০ গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের ভোগান্তি

এক পাশে গজারি বনে ঢাকা নয়নাভিরাম দোখলা পিকনিক স্পট। আরেক পাশে ধরাটি গ্রাম ঘিরে প্রমত্তা বংশাই নদী। মাঝে বিশাল চাঁদপুর রাবার বাগান। এ বাগান ভেদ করে চলে গেছে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দোখলা-ধরাটি কাঁচা রাস্তা। এ রাস্তা পাকা না হওয়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি ১০ গ্রামের গারোরা শিক্ষাদীক্ষা হাঁটাচলা ও জীবনজীবিকায় নিদারুণ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ধরাটি গ্রামের স্কুলশিক্ষক রিমন্ড চিশিম জানান, ৮৫ সালে তদানীন্তন সরকার অনেক গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করে পীরগাছা-চাঁদপুর ৬ হাজার একরে রাবার বাগান উদ্বোধন করেন। তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দেন গারোদের চলাচলের সুাবিধার্থে এ রাস্তাটি পাকাকরণ হবে। তারপর কেটে গেছে ৩৬ বছর। কেউ কথা রাখেনি।

মমিনপুর, মালাইদ, ধরাটি উত্তর ও পূর্ব পাড়া, চাঁনপুর, কোনাবাড়ী, নয়নপুর, জালিচিরা, তালতলা, থানারবাইদ গ্রামে গারোদের বসবাস। আনারস, কলা, আদা, হলুদ ও সবজি আবাদে জীবিকা অর্জন তাদের। আশপাশের পাঁচ/ছয় কিলোতে হাটবাজার নেই। দোখলা ও কাউচি বাজারে ফল ও কৃষিপণ্য বেচতে হয়। দোখলা-ধরাটি ভায়া রাবার বাগান রাস্তাই যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র উপায়।

দোখলার ব্যবসায়ী ফরমান আলী জানান, সাবেক অরনখোলা ইউনিয়নের এসব গ্রাম তিন বছর আগে কুড়াগাছা ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে বিভক্ত হওয়ার পর রাস্তায় এক কোদাল মাটিও পড়েনি। শুষ্ক মৌসুমে গরু, ঘোড়া, মহিষ ও ভটভটি চলাচল করলেও বর্ষায় রাস্তা থাকে জলকাদাময়। পশুচালিত শকট তো দূরের কথা, পায়ে চলাই দায়।

মধুপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এসব গ্রামে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার একরে ফল ও মশলার বাণিজ্যিক আবাদ হয়। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার জন্য পচনশীল ফল বাজারজাত করতে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।

নয়নপুর গ্রামের অসীম নকরেক জানান, এখন আনারস পাকার মৌসুম। কিন্তু রাস্তার অধিকাংশ স্থানে এক হাঁটু কাদা। পশুচালিত শকট, ইজিবাইক বা রিকশাভ্যান চলে না। বন্যায় ফলের বাজারদর এমনিতেই কম। এখন খেত থেকে বাইসাইকেলে বাজারে ফল আনতে দ্বিগুণ খরচ পড়ে। তাই ফল বেচায় লাভ হচ্ছে না।

কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য অর্চনা নকরেক জানান, সড়কের আশপাশে চারটি মিশনারি প্রাইমারি স্কুল। পীরগাছা মিশন হাইস্কুল পাঁচ কিলো দূরে। রাস্তার দুরবস্থার দরুন বর্ষাকালে দুই তিন মাস শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ থাকে।

এনজিওকর্মী প্রনেল দালবত্ জানান, গারো জনপদ সরকারের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।

১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল হোসেন জানান, ১০ গ্রামের মানুষের প্রধান চাওয়া এ রাস্তা পাকাকরণ। কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, এ রাস্তা ১০ গ্রামের ১০ হাজার কৃষিজীবী মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মধুপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুত্ কুমার দাস দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাস্তাটি পাকার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

(জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-