মধুপুরে কাউচি পাথরের রাস্তা সংস্কারে নয়ছয়

সকালেই কাঁচা রাস্তায় পিঁপড়ার সারির মতো নামে ভ্যান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক। কোনোটিতে কলা, আনারস, পেঁপে, লেবু, সবজি অথবা যাত্রীতে ঠাসা। এ পথে যারা যাওয়া-আসা করেন তারা ইটপাথরের একটি ফলক লক্ষ্য করে গালি দেন। বৃষ্টিতে রাস্তা কাহিল হলে গালির মাত্রা বেড়ে যায়। মনে হয় যত দোষ ঐ নির্বাক ফলকের। গালি শুনে কান ভারী হয়ে গেছে। এভাবেই কাঁচা রাস্তার ফলক নিয়ে গালির কেচ্ছা বলছিলেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গুবুদিয়া গ্রামের মুদিদোকানি ভোলা মিয়া।

মধুপুর উপজেলার বেড়িবাইদ ইউনিয়নের গুবুদিয়া মোড়ে ভোলা মিয়ার দোকান। দোকানের অদূরে ইটপাথরের ফলক। তাতে লেখা এলজিএসপি-৩, ১ নম্বর ওয়ার্ড, ঝাটারবাইদ মাদ্রাসা হতে ভোলার দোকান পর্যন্ত রাস্তা কাউচি দিয়ে উন্নয়ন, বরাদ্দ ১,৫০,০০০/ টাকা, অর্থ বছর ২০১৮-১৯, বাস্তবায়নকাল ২০১৯-২০, বাস্তবায়নে ৩ নম্বর বেড়িবাইদ ইউনিয়ন পরিষদ, মধুপুর, টাঙ্গাইল।

মধুপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের টাকার চেক সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ছয় মাস আগেই নিয়ে গেছেন।

ঝাটারবাইদ গ্রামের রাজমিস্ত্রি সাইদুর রহমান জানান, এ তিন কিলো কাঁচা রাস্তা ধরে সকাল-বিকাল তার যাতায়াত। সামান্য বৃষ্টিতেই লালমাটির রাস্তা কর্দমাক্ত হয়। পায়ের জুতা হাতে নিয়ে চলেন। পাঁচ/ছয় বছরে কাউকে রাস্তায় কাউচি ফেলতে দেখেননি।

বেড়িবাইদ গ্রামের ফল চাষি আখতার হোসেন জানান, এ পাহাড়ি ইউনিয়নের ৯৯ ভাগ চাষি ফল ও সবজি আবাদে জড়িত। পণ্য বাজারজাতকরণে এ পথেই জলছত্র পাইকারি মর্কেটে যেতে হয়। কিন্তু কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি।

ঝাটারবাইদ গ্রামের ভ্যানচালক মনির হোসেন জানান, সাত বছর আগে গুবুদিয়ার আয়নাল মেম্বার এ রাস্তায় কাউচি ফেলেন। ফল ও সবজি ভর্তি ট্রাকের চাপে তিন বছরেই তা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। পাঁচ/ছয় মাস আগে এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন রাস্তার ধারে চকচকে ফলক। কাউচিহীন রাস্তার ধারে ফলক দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হন। সামান্য বৃষ্টি হলেই রিকশাভ্যান কাদায় আটকে যায়। তিন চার জনে ঠেলে পার করতে হয়। ক্ষুব্ধ পথচারিরা এজন্য ভোগাস ফলক দেখে গালিগালাজ করেন।

গুবুদিয়া গ্রামের কলেজ শিক্ষক মনিরুজ্জামান আকাশ জানান, জাঙ্গালিয়া, মাগন্তিনগর ও জলছত্র গ্রামের পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পথে আসা-যাওয়া করেন। ছয় বছরেও এ রাস্তায় কাউচি পড়েনি। কিন্তু রাতের আঁধারে ইটপাথরের ফলক স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কীভাব চোরাবালিতে হারিয়ে যায় এ ফলক তার নীরব সাক্ষী।

কুড়াগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, পাহাড়ি টিলা খুঁড়ে পাওয়া এসব কৃষ্ণকায় পাথর কুচিতে রাস্তা সংস্কার হলে অনেক দিন টেকে। কারণ এ পাথর থেকেই নতুন পাথর গজায়।

বেড়িবাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলহাস উদ্দীন জানান, ঐ কাউচি প্রকল্পের সভাপতি হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ বাহাদুর। তিনি হয়তো রাস্তায় কাউচি না ফেলেই ফলক বসিয়েছেন। দুই এক দিনের মধ্যেই কাউচি ফেলা হবে।

ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, তিনি প্রকল্পের সভাপতি কি না জানেন না। সাংবাদিকরা খোঁজ পেয়েছেন জানতে পেরে চেয়ারম্যান সাহেব আজ তাকে কিছু টাকা দিয়েছেন কাউচি কেনার জন্য।

মধুপুর এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুত্ কুমার দাস জানান, এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেন লোকাল গভর্মেন্ট ইনস্টিটিউট। তারাই এটি তত্ত্বাবধান করেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপপরিচালক শরীফ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা জানান, তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-