মধুপুরে অপহরণকারী সন্দেহে আটক ২, গাড়িতে আগুন

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টার সময় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের সিংহচালা গ্রামের পাকা রাস্তার উপর জমায়েত জনতা অপহরনকারী সন্দেহে একটি প্রাইভেটকার (নোয়া) গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে রাস্তার নিচে নেমে গেলে গাড়ির ভিতরে থাকা তিনজন পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা আটককৃতদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় গাড়ির ভিতরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃতঃ জব্বার চেয়ারম্যানের ছেলে আঃ রাজ্জাক গুরুতর আহত হন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় ১০জনের অধিক লোক আহত হয়েছেন।

জনতার গণধোলাইয়ের ফলে সন্দেহজনক অপহরনকারীদের নাম ও ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় মৃত: ইমান আলীর ছেলে জামাল হোসেন ঘাটাইলডটকমকে জানান, অপহরণকারী সন্দেহে তাদের গাড়িটিকে ঘাটাইলের গারোবাজার এলাকায় আটকানোর চেষ্টা করে জনতা। পরে গাড়িটিকে বাঁধাদানে ব্যর্ধ হয়ে কয়েকজন মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির পিছনে পিছনে আসতে থাকে, আর ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করতে থাকলে মধুপুরের সিংহচালা নামক স্থানে এসে গাড়িটির চালক নিয়ন্ত্রণ হাঁড়ালে গাড়িটি রাস্তার নিচে চলে যায়। এসময় গাড়ির ভিতরে থাকা সন্দেহজনক অপহরনকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে একজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ধরতে সক্ষম হয়।

পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মোবাইলে কল করে ঘটনার বিবরণ জানালে তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে খবর পৌছালে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল থানার অন্তর্ভুক্ত সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের ওসি আশরাফুল আলম তার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং ধলাপাড়া ফাঁড়ির এএসআই এনামুল তাৎক্ষণিকভাবে আসেন। ঘটনাস্থল মধুপুর থানা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় মধুপুর উপজেলার এসআই আঃ হাই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আসেন।

পরমুহুর্তে মধুপুর উপজেলা ভারপাপ্ত কর্মকর্তা নিজে এসে স্থানীয়দের প্রাথমিক জবানবন্দী নিয়ে সন্দেহে আটককৃত আসামিকে চিকিৎসার জন্য মধুপুর উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়ায় সন্দেহজনকভাবে আরেকজনকে একই ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে আটক করে সিংহচালা নিয়ে আসলে তাকেও মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

ঘাটাইলের সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকতা আশরাফুল আলম জানান, গণধোলাইয়ের ফলে অপহরণকারী সন্দেহে আটককৃতের নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যেহেতু বিষয়টির সম্পর্কে এখনো সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনা পার্শ্ববর্তী মধুপুর থানায়, তাই আমরা সন্দেহে আটককৃত অপহরণকারী আসামীদের মধুপুর থানায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সন্দেহজনক অপহরণকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর জিজ্ঞাসাবাদ এবং সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে মূল ঘটনা জানা যাবে বলে তিনি জানান।

(রাজিবুল ইসলাম রিয়াজ, ঘাটাইলডটকম)/-

464total visits,2visits today