মওলানা ভাসানী কাহিনী

মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে থাকলে মাঝে মাঝে চারাবাড়ি ধলেশ্বরী নদীর ঘাট থেকে নৌকায় করে তাঁর শিষ্য কৃষক নেতা তোরাব আলী ফকিরের বাড়িতে যেতেন।

এই বাড়িতে কখনও কখনও তিনি রাতও যাপন করতেন।

এলাকাটির নাম এখন তোরাবগঞ্জ। তোরাবগঞ্জ বাজারটি এখন বেশ সমৃদ্ধ। তবে নদীটি এখন মৃতপ্রায়। নদীর পেটে এখন ধান-পাট-সবজী চাষ হয়।

মওলানা ভাসানী নৌকাতে তোরাবগঞ্জ ও আশেপাশের চর এলাকায় ঘুরে বেড়ানো পছন্দ করতেন। নৌকায় নদীতে বিশেষ করে জোছনা রাতে ভেসে বেড়ানোতে তাঁর ছিল অপার আনন্দ।

তোরাব ফকিরের বাড়িতে তিনি গেলে আশেপাশের বাগবাড়ি, করাইল, গোলাবাড়ি, আলোকদিয়া প্রভৃতি গ্রাম থেকে বহু লোক; গ্রামের গরিব কৃষকই বেশী, দলে দলে আসতো।

কেউ আসতো আধ্যাত্মিক শিক্ষা নিতে, কেই আসতো রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা আলোচনা করতে, কেউ আসতো তার ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান চাইতে।

গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা এবং তা দূর করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভাসানী তাদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। যত দরিদ্রই হোক তাদের কথার মূল্য দিতেন। বিশেষ বিশেষ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গ্রামবাসীকে উপদেশ ও পরামর্শ দিতেন।

মওলানা ভাসানীর খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কোনরকম বাছবিচার বা শুচিবাই ছিল না। চায়ের নেশা তাঁর ছিল না, তবে ফজরের নামাজের পর ভোরে মুড়িসহ এক পেয়ালা চা খেতেন। তাছাড়া সকালে বিচি-কলা খেতে পছন্দ করতেন।

বিকেলে যদি পথে-ঘাটে না থেকে বাড়িতে থাকতেন তাহলে আর এক কাপ চা ও সামান্য নাশতা খেতেন। কখনও কখনও মুড়ি বা খই খেতে পছন্দ করতেন। সফরে না থাকলে বারটার মধ্যে দুপুরের খাওয়া খেয়ে নিতেন।

যমুনা ধলেশ্বরী বা খাল-বিলের ছোট মাছ বাজার থেকে আনাতেন। বর্ষাকালে শোল, গজার বা টাকি মাছের পোনা পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা চচ্চড়ি অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তবে যে কোন মাছই ছিল তাঁর অতি প্রিয়।

কোনদিন সন্তোষে তাঁর বাড়ির সামনে চেয়ারে বসে থাকতেন। তসবি হাতে দোয়া-দরুদ পড়তেন। রাস্তা দিয়ে মৎস্যজীবীরা মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় বলত, হুজুর কিছু মাছ দিয়া যামু?

মওলানা ভাসানী উঠে গিয়ে মাছের ডালিতে মাছগুলো দেখতেন। বেছে বেছে তাঁর প্রিয় ছোট মাছগুলো আলাদা করতেন। মাছ ব্যবসায়ীরা দাম নিতে চাইত না, কিন্তু তিনি জোর করে বকাঝকা করে দাম দিয়ে দিতেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-