ভয়াল পিলখানা হত্যাযজ্ঞ

আগামিকাল মঙ্গলবার পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো একটি দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে ঘটে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা।

পৃথিবীর ইতিহাসে বড় দুই যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯৪৩ সালে জার্মান কর্তৃক রাশিয়ার সেন্টপিটার্বাগ দখলের অভিযান। এই দুটি যুদ্ধেও একদিনে ৫৭ জন উচ্চ পর্যায়ের সেনা অফিসার সহ ৭৪ জনকে বিকৃত কায়দায় হত্যার নজির নাই। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও ৫৭ জন সেনা অফিসার মৃত্যুবরণ করেননি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির পীলখানা হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সেনা হত্যাকান্ড এবং স্বল্প সময়ে বিনা বাঁধা ও প্রতিরোধে সেনা সদস্য হত্যার অদ্বিতীয় উদাহরণ।

তখন সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। পিলখানার চারটি প্রবেশ গেটই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে তারা। জন্ম নেয় এক বীভৎস ঘটনার।

৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান ঘটলেও ততক্ষণে বিদ্রোহী সৈনিকরা কেড়ে নেয় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তার জীবন। পিলখানায় পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তর। ঘটনার পর পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

এ ঘটনায় সারাদেশের মানুষ হতবাক হয়ে যায়। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

পিলখানায় এ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে। শুরু হয় বিডিআরকে পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপার পুনর্গঠন করে নতুন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্ম হয়। পরিবর্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন।

বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদন্ড। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ৮৫০ জন আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। ২৭১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহের (বর্তমান বিজিবি) ঘটনার ৪ বছর ৮ মাস পর ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লালবাগে অবস্থিত আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে এ হত্যা মামলার রায় দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে অন্যদের ২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। আসামিদের মধ্যে ৬ জন ডিএডি রয়েছেন। ওই দিন ৮২৩ আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০১০ সালের ১২ জুলাই পিলখানা হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে সম্পূরক চার্জশিটে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়। পিলখানা হত্যা মামলার ২৩৩তম কার্যদিবসে ৬৫৪ জন সাক্ষী আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, ওই ঘটনা ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। বিডিআরের জওয়ানরা ‘দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের উপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে’ যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে, সেই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক নবজ্যোতি খিসা। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের নিজস্ব আইনে ৫৭টি মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে সারাদেশে ৫ হাজার ৯২৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। বিডিআর আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা ছিল সাত বছর কারাদন্ড। বর্তমানে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সরকারিভাবে এ দিনটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আইএসপিআর জানায়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়  শহীদ সেনাসদস্যদের শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে সকাল ৯টায়।

অন্যদিকে, বিজিবি’র সদর দফতর পিলখানা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পিলখানায় বিজিবির সদর দফতরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় কোরআন খতম করা হবে। বিজিবি’র সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া, সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানরা (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়া দিনটি পালন উপলক্ষে বিজিবি’র যেসব স্থানে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন হয়, সেসব স্থানে বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবি’র সবসদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবে।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় আসরের নামাজের পর পিলখানা কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ওই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদদের নিকটাত্মীয়রা, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অংশ নেবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র পর্যায়ের নেতারা সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

সেদিন যা ঘটেছিল

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার পরপরই পিলখানা বিডিআর সদরদপ্তরে গুলির শব্দ পাওয়া যেতে থাকে। বিডিআর সপ্তাহ চলার কারণে প্রথমে অনেকেই ভাবছিলেন, কোনো কর্মসূচি চলছে। কিন্তু কিছু সময় পর জানা যায়- বিদ্রোহ হয়েছে; পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জওয়ানরা।

বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরই মধ্যে পিলখানার চারদিকে সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।এদিকে পিলখানার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় বিডিআর দপ্তরে বিদ্রোহের খবর আসতে থাকে।

এক পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে শুরু হয় আলোচনা। তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম ও সাংসদ ফজলে নূর তাপস এ আলোচনার নেতৃত্ব দেন।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিদ্রোহীদের আলোচনা হয়। পরে পিলখানার প্রধান ফটকের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আলোচনায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন।

গভীর রাতে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পিলখানায় গেলে বিদ্রোহীরা তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিয়ে আসার সময় বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। তারা মুক্ত হন। কিন্তু এরপরও পিলখানা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে দেখা যায়।

এক পর্যায়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে পিলখানা শূন্য হয়ে পড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অবসান ঘটে প্রায় ৩৩ ঘণ্টার বিদ্রোহের।

বিদ্রোহের প্রথম দিন দুপুরে কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধের কাছে ম্যানহোলের মুখে দুই বিডিআর কর্মকর্তার লাশ পাওয়া গেলে হৈ চৈ পড়ে যায়। বোঝা যায়, ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিদ্রোহ অবসানের পরদিন পিলখানায় পাওয়া যায় একাধিক গণকবর। সেখানে পাওয়া যায় বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, তার স্ত্রীসহ সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

বিদ্রোহীরা আমাদের সেনা সদস্যদের হত্যা করে লাশ মাটিতে পুতে রাখে। মৃতদেহ ড্রেনে ঢুকিয়ে সুয়ারেজ দিয়ে নদীর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। মৃত্যু নিশ্চিতে দেহ বেয়নেট দিয়ে খোঁচানো হয়। বাসার সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে রাস্তায় রক্তের দাগ লাগিয়ে টেনেহিঁচড়ে মৃতদেহ নেওয়া হয়েছিল। মৃতদেহ গাড়িতে তুলে তাতে আগুন লাগিয়ে লাশ ভস্মীভূত করা হয়েছিল। লাশ মাটিতে পোঁতার সময় তীব্র শব্দে গানের ব্যবস্থা করা হয়। ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে পিলখানার চারপাশে তিনমাইল জায়গা খালি করার জন্য মাইকিং করা হয়েছিল।

বিদ্রোহের নামে ৩৬ ঘন্টার ধ্বংসযজ্ঞে পিলখানায় শুধু লাশ আর লাশ। রক্ত আর রক্ত। পোড়া গাড়ি, ভাঙা গ্লাস, ঘাষের ভেতর তাজা গ্রেনেড এবং ধ্বংসের সব চিহ্ন। সেনা কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারগুলোর তছনছ অবস্থা। বিভিন্ন স্থাপনায় জ্বালাও-পোড়াওয়ের ধোঁয়ায় ধূসরিত চিহ্ন। ড্রেনের ম্যানহোল থেকে ভেসে আসা লাশ আর রক্তের উৎকট গন্ধ। ৩৬ ঘন্টার এই বিদ্রোহ পিলখানা থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে বিডিআরের ৫৭টি ইউনিটে।

অস্ত্রাগারের হাতিয়ার ও গোলাবারুদ বিদ্রোহীরা হাতে হাতে নিয়ে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি করে পালিয়ে যায় তারা। যার অনেকটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

২৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে ও রাতে বিদ্রোহী অনেকে পালিয়ে যাওয়ার পর পিলখানায় তাদের নৃশংসতার ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার এ বিদ্রোহের পর পিলখানা পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। সর্বত্রই বর্বরতা আর নৃশংসতার চিহ্ন। ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর করা হয়। সেনা কর্মকর্তাদের আবাস্থল জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

ম্যানহোলে ফেলে দেয়া ৯ সেনা কর্মকর্তার লাশ কামরাঙ্গীরচরে একটি স্যুয়ারেজ লাইন থেকে উদ্ধার করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হাসপাতালের পেছনে ও ১৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মাঠের একটি গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৯টি লাশ। এমটি গ্যারেজ মাঠের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৯টি লাশ।

সকালে বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর মহাপরিচালক মোবাইলে তাদের রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ সকলের কাছে আবেদন করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ফলে বিদ্রোহের প্রথম দিনেই তাদের মর্মান্তিকভাবে নিহত হতে হয়। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বিদ্রোহীদের ডেকে এনে আলোচনা করে তাদের সকল দাবি মেনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহীদের দমনে অভিযানের বদলে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের কমান্ডার নিয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-