ভূঞাপুরে ছেলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা

যৌবনে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও বার্ধক্যে আজ দস্যু ছেলের হাতে ভয়াবহ নির্যাতন সইতে না পেরে ২ মাস ধরে নিজ ভিটামাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা চরপাড়া গ্রামে ছেলের হানিফার বিরুদ্ধে বাবাকে মারধরের এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের সাত মেয়ে ও এক ছেলে। সাত মেয়েকে বঞ্চিত করে ছেলেকে বাড়ীঘর, সহায় সম্পত্তি ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতার পাশ বই ছেলে নামে লিখে না দেওয়ার বৃদ্ধ বাবাকে মারপিট ও হত্যার চেষ্টা করা সহ বাড়ীঘর থেকে বের করে দেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত জানা যায়, ২৭ জুন রাতের আধারে হানিফা তার বাহিনী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ছুড়ি দিয়ে হত্যার করার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধার পাশবই চেক সহ প্রয়োজনীয় কাগজপাতি হাতিয়ে নিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেন এবং ঘরে থাকা খাদ্যশস্য বিভিন্ন বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে টাকা আত্যসাৎ করে।

বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ছেলের অত্যাচার আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ১ জুন বাদী হয়ে ছেলে হানিফার বিরুদ্ধে ভূয়াপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে থানায় অভিযোগ দিয়েও আমি বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে পারছি না।

তিনি বলেন, মামলা করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিয়তই ছেলে হানিফা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ মোবাইলে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। এই বৃদ্ধ বয়সে ২ মাস ধরে মেয়ের বাড়ী এবং এ বাড়ী ও বাড়ী পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই।

মুক্তিযোদ্ধার মেয়েদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমার আব্বা মুক্তিযোদ্ধা, আর আমার ভাই হানিফা তার দলবল নিয়ে আমার আব্বার উপর হামলা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং জমিজমার লিখে না দেওয়ার কারনে তাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। আমরা তার সুষ্ঠ বিচার চাই।

সরেজমিনে তার নিজ বাড়িতে গেলে বাড়ীঘর তালাবদ্ধ অবস্থা দেখা যায়। ছেলে হানিফাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান। মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের ঘরের ছেলে নাতনী মানিক জানায়, তার মামা তার নানাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমরা নানাকে আশ্রয় দিয়েছি। সে আমাদের কে প্রতিনিয়তই মোবাইলে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই। সুষ্ঠ বিচার চাই।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৭২ হাজার টাকা ছেলে নিয়েছে।

ভুয়াপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই আমিনূলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবা ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। ছেলে ঢাকা থেকে আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-