ভুঞাপুর হাসপাতালে নেই সাপে কাটার ভ্যাকসিন, চরম দুর্ভোগ

কয়েক সপ্তাহ ধরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করছে। পানি কমলেও এ উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, বন্যার দুর্ভোগও কমেনি বন্যার্তদের। নানা রোগে আক্রান্তের আতঙ্কে রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষসহ এ উপজেলার পানিবন্দি হাজারো মানুষ। এতে করে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন নিম্নাঞ্চল ও যমুনা চরাঞ্চলের বন্যার্তরা পানিতে বসবাস করায় হাত ও পায়ে ঘা, ঠান্ডা জ্বর, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ পানিবাহিত নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার কোন কোন সাপে কাটার ঘটনাও ঘটেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে না বন্যার্তরা। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের নার্স থেকে শুরু করে কর্মচারীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে সেবা প্রত্যাশীদের মাঝেও করোনার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে বলছে- বন্যার্ত যারা রয়েছে তাদের জন্য মেডিকেল টিম, পর্যাপ্ত ঔষধ ও খাবার স্যালাইন রয়েছে। কিন্তু বন্যার্ত এসব অনেক এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আবার কোন কোন স্বাস্থ্যন্দ্রে বন্যার পানি উঠায় সেখানে স্বাস্থ্য সেবা পায়নি বন্যার্তরা। দুর্গম চরাঞ্চলে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রাথমিক চিকিৎসার কোন ঔষধ সরবরাহ নেই। নেই কোন সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন।

এই তো গেল সপ্তাহের বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার খানুরবাড়ী গ্রামের রবিন হাওলাদারের মেয়ে অনিমা (১০) নামে এক কিশোরীকে সাপে কাটে। উপজেলা সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা ভ্যাকসিন না পেয়ে স্থানীয় কবিরাজের (ওঝার) স্বরণাপন্ন হয়। পরে ওঝার ঝারফুকে ভালো হয় বলে জানান অনিমার পরিবার।

গাবসারা চরাঞ্চলের রুলিপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল লতিফ জানান- ‘প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন পানিবাহিত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারিভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট সরবরাহ করা হলে বন্যার্তদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। কেবল বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।’

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মরিুজ্জামান মনির বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঔষধ সামগ্রী বিতরণ হয়নি। বন্যার সময় এলাকায় কোন স্বাস্থ্যসেবী দেখা যায়নি। ইউনিয়নটি চরাঞ্চল হওয়ায় এমনিতেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষজন।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন জানান, ‘বন্যা কবলিত এলাকার জন্য উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জন্য ৬টি এবং জরুরি অবস্থার জন্য ২টি রির্জাভ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পানিবাহিত রোগ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।’

বন্যার্তদের এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন বিডি২৪লাইভকে মুঠোফোনে বলেন- উপজেলা সরকারি হাসপাতালের টিএসও’কে বলা হয়েছে পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে যেন বন্যার্তদের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ সকল প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ যেন বিতরণ অব্যাহত রাখেন।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-