ভুঞাপুরে সরকারিভাবে ঘর দেওয়ার নামে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিনামূল্যের সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভরুয়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে মালেক ও তার ভাই কালু শেখ প্রতি ঘরের জন্য ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আব্দুল মালেকের এক আত্মীয় সচিবালয়ে চাকুরী করেন। সে সুবাদে বিনামুল্যে সরকারি ঘর এসেছে বলে লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। ঘর প্রতি আদায় করেছে ৫০ হাজার টাকা। বিনিময়ে লোকজনের কাছে ঘর তৈরির মালামালও দিচ্ছেন তারা।

অভিযুক্ত মালেকের কাছের একজন লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গোপালপুর ঊপজেলাসহ ভূঞাপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামের ৪ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে মালেক ও তার বড় ভাই কালু শেখ তাদের লোকজন। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

টাকা নেওয়ার পর গোপালপুর উপজেলার কাহেতা এলাকা থেকে ঘরের জন্য টিন, কাঠ, খুঁটি, সিমেন্ট ও ইট দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে নলীন বাজার সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, কয়েকটি বাড়িতে টিনের আধপাকা ১৬ হাতের একটি করে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মেঝে পাকাসহ টিনের চাল লাগানো শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ঘরের বেড়া, দরজা ও জানালা লাগনোর কাজ।

উপজেলার বলরামপুর, অজুর্না, তারাই, ভরুয়া, বল্লববাড়ি এবং গোপালপুর উপজেলার নলীন, হেমনগর কাহেতা এলাকার ৩শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের ঘর তৈরির মালামাল দিয়েছে।

ভরুয়া গ্রামের পাসান আলী, কাদেরসহ অনেকেই জানান, মালেক এক সময় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতো। পরে কিভাবে সরকারিভাবে বিনামূল্যের ঘর এনে কাজ করছে জানি না। ঘর প্রতি মানুষের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। মানুষজনও ঘর পাওয়ার আশায় টাকা দিচ্ছে। এপর্যন্ত শতাধিক মানুষকে ঘর দিয়েছে কিন্তু এখনও ঘরের কাজ শেষ হয়নি।

নলীন বাজার সংলগ্ন ঘর পাওয়া আজাহার ও তার স্ত্রী বলেন, শুনেছি সরকারিভাবে ঘর এসেছে গরীব মানুষকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু মালেক ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছে ঘর দেওয়ার জন্য। ঘর আনতে নাকি টাকা খরচ হয় তাই টাকা নিয়েছে।

নলীন গ্রামের তারা মিয়া নামের আরেকজন বলেন, টাকা ছাড়া কেউ ঘর দেয় না। টাকা দিয়ে ঘর তৈরির জন্য মালামাল এনে নিজের মত করে ঘর তৈরি করেছি। এখনও কাজ শেষ হয়নি।

ঘরের কাঠ বিক্রেতা পাসান, জামাল, সমেশ শাহার আলী জানান, শুনেছি সরকারিভাবে ৪শতাধিক ঘর নির্মাণ করা হবে। এই জন্য মালেক কাঠ নিয়েছে আমাদের কাছ থেকে।

নলীন বাজারের মনোহারী দোকানদার আমিনুর বলেন, সরকারিভাবে আসা ঘরের জন্য মালেককে ৫টি ঘরের জন্য টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘর দেওয়ার কোন খবর নেই।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলার ভরুয়া গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন সাবের (সাহেব) মাধ্যমে ৫০টি বিনামূল্যের ঘর বরাদ্দ পেয়েছি। এই ঘরগুলো মানুষের মাঝে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের মাধ্যমে এই ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে।

ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা জানান, ঘরের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু সরকারি ঘর কিভাবে এনেছে সেটা জানা নেই। সরকারি দপ্তরগুলোতে খোঁজখবর নেওয়ার পরও কোন হদিস পাইনি।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন জানান, ব্যক্তি পর্যায়ে আসা বিনামুল্যের ঘর এবং ঘরের জন্য টাকা আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ভুঞাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-