ভিআইপি প্রার্থী শুন্য এখন কালিহাতী

বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত একটি সংসদীয় আসনের নাম ছিল টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি। কালিহাতীর মাটিতে জন্ম নিয়ে, কালিহাতীর সন্তান হিসেবে নিজেকে অনেকটাই গর্বিত মনে করতাম।

বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যে বড় দুইটি দলের হাতে আছে সেই দুইটি দল বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ দু ‘দলেই এখানে ছিল ভিআইপি প্রার্থী।

প্রথমে জাসদের ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন মহান স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠক জনাব শাজাহান সিরাজ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আওয়ামী ছাত্রলীগ (পাকিস্তান) এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে জাসদ সভাপতি হন।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নির্বাচিত হন। সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক আমাদের জাতীয় পতাকার সবুজের ভিতরে লাল বৃত্তের ও প্রস্তাবকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) শাজাহান সিরাজের কক্ষে বসেই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রুপরেখা তৈরি করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বঙ্গবন্ধুর চার খলিফার এক খলিফা হিসেবেও পরিচিত তিনি। আর এই শাজাহান সিরাজই ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির কর্ণধার।

আর এখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে একাধিক বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মন্ত্রী, পরবর্তীতে যিনি আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন সেই নেতা জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। স্ত্রীর দূর্নীতি এবং শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন শাজাহান সিরাজ।

হজ্জ্ব এবং রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েন লতিফ সিদ্দিকী।

ভিআইপি আসন কালিহাতী হয়ে যায় ভিআইপি শূন্য। শুধু ভিআইপি শূন্যতা নয়, যোগ্য নেতৃত্বের শূন্যতায় পড়ে বড় দুই দলই।

ক্ষমতায় থাকার কারনে ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব শূন্যতা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও দিন গড়ানোর সাথে সাথে বিএনপিতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবটা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেলবাজ দের কদর বেশি হওয়াতে, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা মুখ খুলেনা বললেই চলে। কারন তেলবাজী করে দলের পদ পদবী আর সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেয়া এখন বেশিরভাগ নেতাকর্মীর স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে দল এবং নেতাদের দূর্বল বিষয় নিয়ে কথা বললে নেতাদের বিরাগভাজন হওয়ার সম্ভাবনাটাই শতভাগ।

তাই দলে কোনঠাসা হওয়া বা দল থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিটা নিতে চায় না কেউই।

তবে সত্যি এটাই যে কালিহাতী বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এখন নেতৃত্ব শূন্য। কালিহাতী দুদলেই যোগ্য নেতৃত্বের বড়ই অভাব।

বিএনপির রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কালিহাতীতে জন্ম নেয়া এমন কাউকেই দেখিনা যিনি বিএনপির মত একটি বড় দলের হয়ে কালিহাতীতে যোগ্যতা এবং দক্ষতার সাথে কালিহাতী বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো।

শেষ করার আগে একটা পুরোনো কথা মনে পরল। কথাটি হল:”গাছের নীচে গাছ হয়না “। কথাটির সারমর্ম হল, কোনো বড় গাছের নীচে গাছের নতুন চারা রোপন করলে সেই গাছটি সহজে বেড়ে উঠতে পারেনা। আলো হাওয়ার অভাবে চারা গাছটির স্বাভাবিক বিকাশ হয়না কখনোই। আমাদের কালিহাতী বিএনপির হয়েছে সেই অবস্থা।

শাজাহান সিরাজ নামক বটবৃক্ষের নীচে এখানে আর কোন গাছ স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি। যে কয়টা বেড়ে উঠেছে, সেই কয়টা অপুষ্টিতে রোগাক্রান্ত হয়ে বেড়ে উঠেছে।

(হামিদুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email