ভাড়া দিতে পারেনি, বন্ধ হচ্ছে বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স

করোনা মহামারির মধ্যে কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারার কারণে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে তাদের ছবিঘর বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

কোনো উপায় না পেয়ে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও তাদের ছবিঘর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টার সিনেপ্লেক্স চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান।

দেশে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে চলচ্চিত্র শিল্পের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আজ খবর এল, একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে স্টার সিনেপ্লেক্সের ৬টি ছবিঘর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বন্ধ ছবিঘর চালুর ব্যাপারে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। ঠিক তার কিছুদিন পর স্টার সিনেপ্লেক্স বন্ধ হওয়ার খবরে ঢাকা শহরের সিনেমাপ্রেমী দর্শক হতাশ হয়েছেন।

বিনোদন অঙ্গনের অনেক পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী স্টার সিনেপ্লেক্সের হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বড় নেতিবাচক ঘটনা মনে করছেন।

করোনা মহামারির শুরুতে সরকার যখন ছবিঘর বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, তখন থেকে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এই লম্বা সময়ে কোনো ধরনের ব্যবসা না হওয়াতে তারা ভবন কর্তৃপক্ষকে ভাড়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। ভবন–সংশ্লিষ্টরাও নোটিশ দিয়ে জানায় ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে। কিন্তু মাসে যে পরিমাণ ভাড়া গুনতে হয়, তা ব্যবসা হওয়া ছাড়া মোটেও সম্ভব না বলে মনে করেন সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান।

এরপরও একাধিকবার ভবন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। কিন্তু তারপরও স্টার সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান মাহবুব রহমান।

তিনি জানান, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ৮ তলায় তাদের ৬টি ছবিঘর আছে। সব কটি ছবিঘরে একসঙ্গে ১ হাজার ৬০০ দর্শক ছবি দেখার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এখন থেকে তা আর সম্ভব না।

মাহবুব রহমান বললেন, ‘দেশ–বিদেশের বিখ্যাত সব সিনেমার প্রিমিয়ার আমাদের এই শাখায় হতো। ঢাকা শহরের বেশির ভাগ সিনেমাপ্রেমী দর্শক আমাদের এখানে আনন্দ নিয়ে ছবি দেখতেন। এতগুলো সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাওয়াটা ভীষণ লস। আমি মনে করি, এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, শপিং মল কর্তৃপক্ষের জন্যও বড় লস। এই সিদ্ধান্ত তারা কেন নিল, তা আমি এখনো বুঝতে পারছি না।’

মহামারির মধ্যে সিনেপ্লেক্স বন্ধ ছিল, ব্যবসা হয়নি। তাই আমরা ভাড়া দিতে পারিনি। ভাড়া দেওয়াটা সম্ভবও ছিল না, কারণ ভাড়া ছিল প্রচুর। ব্যবসা না হলে তো মোটেও সম্ভব না। আমাদের ব্যবসার অর্ধেকই চলে যেত ভাড়া খাতে। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানটাই বন্ধ হয়ে গেল ভেবে খারাপ লাগছে।

মাহবুব রহমান জানান, বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে তাদের ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশের কারণে এখন ছবিঘরের অবকাঠামো সরিয়ে নেবেন বলে জানান।

তিনি বললেন, ‘মহামারির মধ্যে সিনেপ্লেক্স বন্ধ ছিল, ব্যবসা হয়নি। তাই আমরা ভাড়া দিতে পারিনি। ভাড়া দেওয়াটা সম্ভবও ছিল না, কারণ ভাড়া ছিল প্রচুর। ব্যবসা না হলে তো মোটেও সম্ভব না। আমাদের ব্যবসার অর্ধেকই চলে যেত ভাড়া খাতে। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানটাই বন্ধ হয়ে গেল ভেবে খারাপ লাগছে।’

দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের বিশ্বমানের প্রেক্ষাগৃহ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে যাত্রা শুরু দেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্সের। এখন সেখানে কি সিনেমা হল থাকবে?

এমন প্রশ্নে মাহবুব রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের যাবতীয় অবকাঠামো সরিয়ে নেব। শুনেছি সেখানে ফুডকোর্ট করা হবে। এর বেশি আপাতত কিছু জানি না।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ফিন্যান্স) শেখ আবদুল আলীমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্স বন্ধের বিষয়টি আদিষ্ট হয়ে আমি শুধু এক্সিকিউট করছি, এর বেশি আমি কিছু জানি না। এটা আমাদের টপ ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার।’

স্টার সিনেপ্লেক্সের জায়গায় কী হবে? জানতে চাইলে শেখ আবদুল আলীম বলেন, ‘সেটাও আমি জানি না। এটা স্যারদের সিদ্ধান্ত। যেহেতু সিনেমাহল ছিল, এন্টারটেইনমেন্ট রিলেটেড কিছু হয়তো করবেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে আমাদের কিছু জানানোও হয়নি।’

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-