ভাঙন ঝুঁকিতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, আতঙ্কে এলাকাবাসী!

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ফলে এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বন্যার আগেই বন্ধ হয়েছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ইতোমধ্যে বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘরের মধ্যে উঁচু বাঁশের মাচা পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। শত শত পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে ও গবাদিপশু নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, অন্যের উঁচু জমি ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। আবার দেখা গেছে, গোবিন্দাসী টি-রোড থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বের সারপলশিয়া সড়কের গাইড বাঁধের পাশে পলিথিন দিয়ে ছাউনি তৈরি করেছে অস্থায়ী থাকার জন্য। তবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৌঁছেনি কোনো ত্রাণ সহায়তা।

এদিকে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৪০টি লিকেজ রয়েছে। এরমধ্যে তাড়াই ও গাড়াবাড়ি সড়কের ১০ পয়েন্ট অত্যাধিক ঝুকিপূর্ণ। তার মধ্যে ৭টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে বাকি পয়েন্টগুলো যে কোন সময় পানি প্রবেশ করতে পারে। সড়কের লিকেজ বন্ধ করতে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কাজ করছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তাড়াই, গাড়াবাড়ি, চুকাইনগর, অর্জুনা ও কুঠিবয়ড়া গাইড বাঁধ পয়েন্টে পানি প্রবেশ করেছে। তারমধ্যে গাড়াবাড়ি পয়েন্টেসহ কয়েকটি স্থানে কাজ চলমান রয়েছে। সড়কের নলিন পর্যন্ত সড়কের পাশে ভাঙনরোধে আগাম প্রস্তুতির জন্য রাখা হয়েছে বালু ভর্তি বস্তা। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক। আর এ সড়ক ভেঙে গেলে উত্তর টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও কালিহাতী এই ৪টি উপজেলা নতুন করে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড গাড়াবাড়ি ও তাড়াই পয়েন্টে লিকেজ বন্ধ করতে বালু ও বালুভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যমুনার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি ও লিকেজগুলো বড় আকার ধারণ করলে যে কোনো মুহুর্তে সড়কটি ভেঙে যেতে পারে। এতে তারাকান্দির সঙ্গে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গসহ টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

অপরদিকে, বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধাক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম ভাঙনরোধ কার্যক্রমের কাজ ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সংসদ্য ছোট মনির, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যায় ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট জানান, উপজেলার বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকা ও বন্যায় ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্তদের জন্য ২৫ টন সরকারি চাল বরাদ্দ এসেছে। তা খুব দ্রুত পানিবন্দি পরিবারদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে লিকেজ দেখা দিয়েছে। সেগুলো বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত প্রকাশ, গত বছর ১৮ জুলাই রাতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী গ্রামের (মলাদহ) নামক স্থানে বন্যার পানিতে লিকেজ হয়ে ৫০ মিটার সড়ক ভেঙে যায়। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-