২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং

ভাঙছে সিদ্দিক-মীমের সংসার

অক্টো ১৫, ২০১৯

পরিবারের সম্মতি নিয়ে ভালোবেসেই ঘরে বেঁধেছিলেন অভিনেতা এবং টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার সন্তান সিদ্দিকুর রহমান ও মারিয়া মিম। সুখের গানে মুখরিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আজ ভাঙনের বিষাদ সুর। দাম্পত্য কলহের জেরে ভেঙে যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকের সংসার। তার স্ত্রী মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া মিম গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্পেনের নাগরিক মারিয়া মিমকে বিয়ে করেন সিদ্দিক। ২০১৩ সালের ২৫ জুন তারা পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই নানা কারণে সিদ্দিক-মিমের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। বাধ্য হয়ে তিন মাস ধরে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকছেন মিম।

সম্প্রতি একটি ঘটনার কথাও জানান মিম, কিছুদিন আগেই একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার কথা ছিল তার। বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর শুটিং হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ তিনি জানতে পারলেন তার পরিবর্তে অন্য এক মডেল দিয়ে এরই মধ্যে বিজ্ঞাপনের কাজ করা হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা রানা মাসুদ। তাকে সিদ্দিকই প্রভাবিত করেছেন মিমকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নেওয়ার জন্য।

মিম বলেন, ‘সিদ্দিক নিজেও একজন শোবিজের মানুষ। অভিনয় করে, মডেলিং করে। আমার কোনো দিন কোনো রকম আপত্তি বা কোনো নেতিবাচক ভাবনা ছিল না। স্বামী হিসেবে ওর কাছে কোনো সহযোগিতা পাই না। সে জন্যই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিচ্ছেদের। দাম্পত্য কলহের জেরে ভেঙে যাচ্ছে তাদের সংসার। অনেক কিছুই তারা মানিয়ে নিতে পারছেন না। মিম চান শোবিজে কাজ করতে। কিন্তু সিদ্দিকের এতে আপত্তি।

বিচ্ছেদের পথে হাটলেও স্বামী সিদ্দিক প্রতিনিয়ত মিমের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাকে কোন কাজ করতে দিচ্ছেন না। নানান সময়ে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানান মডেল ও অভিনেত্রী মিম।

মিম বলেন, ৭ বছর আগে ভালোবেসে সিদ্দিককে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু কিছুটা সময় যাওয়ার পরই আমাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। অনেকটা সময় কাটিয়েছি, কিন্তু আর পারছিনা। গত তিন মাস ধরে আমরা আলাদা থাকছি। অবশেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেই আমি। ডিভোর্স লেটার কিছু দিনের মধ্যেই পাঠিয়ে দিব।

এ বিষয়ে সিদ্দিক বলেন, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গণমাধ্যমে দেখে আমি খুব অবাক হয়েছি। বিভিন্ন সংসারেই এমন অশান্তি হয় আবার মিটেও যায়। আমাদেরও তেমনই হয়েছে। আমি জানি না কার প্ররোচণায় মিম গণমাধ্যমে এসব কথা বলছে। স্বামী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে মিমের মিডিয়ায় কাজের চেয়ে সংসারে মনোযোগী হওয়াটা বেশি দরকার। আমার তো আর্থিক সংকট নেই যে আমার স্ত্রীকে কাজ করে সংসার চালাতে হবে। আমাদের স্বপ্ন একটাই সন্তানটাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলের বয়স এখন ৬ বছর। এটা তার স্কুলে যাওয়ার বয়স। এই সময়ে আমরা দুজনই যদি মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তাহলে আমাদের একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎটা নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে মিমকে বলেছিলাম মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে। এর বেশি কিছু না। ডিভোর্স দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি আমাদের মধ্যে। আমাদের সম্পর্কটা কেমন এটা মিডিয়ার সবাই জানে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বাড়ি গিয়ে আর ফিরে আসেনি মিম। ডিভোর্স দেওয়ার মতো কিছু হলে সেটাতো দুই পরিবারের সবাই বসে যেটা সঠিক মনে হয় সেটাই করবে। তবে সে যদি আমাকে ডিভোর্স দেয় সেটা তার ব্যাপার। ডিভোর্স দিয়ে কাজ করুক। তার আগে কোনোভাবেই কাজ করতে পারবে না। তবে আমি চাই, তার সঙ্গে সংসার করতে। সবকিছুর আগে নিজের পরিবার। এখন হয়তো মিম সেটা বুঝতে পারছে না।

সিদ্দিক জানান, সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করা নিয়ে ঝামেলা হয় মিমের সাথে। নিষেধ করা সত্ত্বেও সে কাজটি করতে চায়। শেষে অবশ্য বিজ্ঞাপনটিতে তার কাজ করা হয়নি। এতেই হয়তো ক্ষোভে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিম।

বর্তমানে একমাত্র পুত্র আরশ হোসেন তার বাবা সিদ্দিকের সঙ্গেই থাকছে। ডিভোর্সের পর নিজেকে শোবিজে ব্যস্ত রাখতে চান মিম।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

পঞ্জিকা

July 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031