বয়াতি শরীয়তের শরীয়ত বিরোধী বক্তব্যে টাঙ্গাইলে ওলামাদের প্রতিবাদ

বয়াতি শরিয়ত সরকার কর্তৃক কুরআন হাসিদের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি, নিজ থেকে কুরআন আয়াত বানানো, ভুল ও মনগড়া তথ্য পরিবেশন, নবীদের সর্ম্পকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে এবং আলেম ওলামাদেরকে নিয়ে অশ্লীন ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে টাঙ্গাইল জেলা কওমী ওলামা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম হল রুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শরিয়ত বয়াতির ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত দেয়া বক্তব্যে মাওলানা ফরিদুল ইসলাম বলেন, আল্লাহ এবং রাসুলের শান, মান ও ইজ্জত রক্ষার্থে সংসদে ব্লাসফেমি আইন পাশ করার দাবি জানানো হয়। সেই সাথে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন সব লেখা সংশোধন করা, বয়াতি বাউল সম্প্রদায়, গায়ক গায়িকা, এবং নাটক নির্মাতা সকলের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানে এমন নাটক-সিনেমা ও গান যাতে কেউ যেন না করে তার জন্য আহবান জানানো হয়।

প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও ইসলাম বিদ্বোষী শরিয়ত সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা কওমী ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলা আব্দুল আজিজ, ধুলেরচর মাদরাসার প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ শামসুজ্জামান, মুফতি শামছুল হক, মাওলানা আব্দুল্লাহ যুবাইরসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ।

উল্লেখ্য গত ২৪ ডিসেম্বর’ রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত পীর হযরত হেলাল শাহ্ পীরের ১০ম বাৎসরিক পালা গানের অনুষ্ঠানে শরিয়ত বয়াতি ইসলাম ধর্ম ও নবী রাসুল নিয়ে শরীয়ত বিরোধী ভুল ব্যাখা দিয়ে গান করেন।

গত ৯ জানুয়ারি শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধমীয় অনুভুতি আঘাত দেয়ার অপরাধে উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গত শনিবার (১১জানুয়ারি) ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাকৃত বয়াতী শরিয়ত সরকার উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে। পরে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত (১৪জানুয়ারি) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আদালতে দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

এদিকে বয়াতি শরীয়ত সরকারের পরিবারের সদস্যদের ‘একঘরে’ করে রেখেছেন তার নিজ গ্রামের মসজিদের ইমাম ফরিদ হোসেন ও কয়েকজন মাতব্বর। এতে গ্রেফতার হওয়া এই বয়াতির পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার স্ত্রী শিরিন বেগম, পুত্র অনিক (১২) ও যমজ দুই কন্যা অনিকা (৭) ও কনিকা (৭) ঘর থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছে। এসব শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বয়াতির ভাই মারফত আলী অভিযোগ করেন, গ্রাম্য কিছু মাতব্বর এবং মসজিদের ইমাম ফরিদ হোসেন তাদের জিম্মি করে রেখেছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-