ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৬ যাত্রী, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। সোমবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ছয়জন মারা যায়। আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীকে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান বলেন, সিলেট থেকে ছেড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল চট্টগ্রামে। আর তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছিল ঢাকায়। তূর্ণা নিশীথার চালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।

মিয়া জাহান বলেন, মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিং হচ্ছিল। সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে হিট করে তূর্ণা নিশীথা। ওই ট্রেনের লোকোমাস্টার সিগন্যাল অমান্য করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি।

সংঘর্ষের পর তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি উদয়নের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। এর মধ্যে দুটি বগি ভীষণভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়। সেখানে আরো মৃতদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনার পরপরই রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এবং পুলিশ সদস্যরাও যোগ দেন।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা অস্থায়ী ক্যাম্পে ১০ জনের লাশ রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এছাড়া কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুইজন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালে একজনের মৃতদেহ রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে আরো দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে- মুজিবুর রহমান (চাঁদপুর), ইয়াছিন (হবিগঞ্জ), সুজন আহমেদ (হবিগঞ্জ), জাহেদ খাতুন (মৌলভীবাজার), কুলসুম বেগম (চাঁদপুর), আল আমিন (হবিগঞ্জ), মোহাম্মদ ইউসুফ (হবিগঞ্জ), আদিবা (হবিগঞ্জ), সোহামনি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।

নিহতের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-