বৈশাখের প্রথম দিনেই মেট্রোরেলের প্রথম স্প্যান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখের প্রথম দিনেই মেট্রোরেলের প্রথম স্প্যান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানী ঢাকাবাসীর প্রতি এটি প্রধানমন্ত্রীর বৈশাখী উপহার। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান প্রথম স্প্যানের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রথম স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হবে। এছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই আগারগাঁও এলাকায় প্রকল্পের দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হবে। খবর: মেট্রোরেল প্রকল্পসূত্রের।

মেট্রোরেলের একাধিক প্রকৌশলী জানান, ‘মেট্রোরেলের মূল ডিপো এলাকার একটি স্প্যান স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। পরবর্তী স্প্যান বসানো হবে আগারগাঁও এলাকায়। দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল এলাকায় এমন ৭৭০টি স্প্যান বসবে। ২০১৯ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সোমবার (৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন মেট্রোরেল ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, স্প্যানের বাকি অংশ স্থাপনে ব্যস্ত রয়েছেন শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা। দিনরাত কাজ করার মাধ্যমে চলছে নির্মাণকাজ। পুরো প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকৃতির ক্রেন, অ্যাসকেভেটর বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছে প্রকল্পের শ্রমিকরা। ধুলাবালি থেকে মুক্তি দিতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এই এলাকায় ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তবে উত্তরা ‍তৃতীয় প্রকল্প থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো প্রকল্প এলাকায় স্টেশন থাকবে ১৬টি। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাভুক্ত এ প্রকল্পের রোকেয়া  সরণির পরিকল্পনা কমিশনের কাছ থেকে মিরপুর পর্যন্ত কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, দিয়াবাড়ির ডিপোর (কনট্রা প্যাকেজ-৩) কাজ আগারগাঁও এলাকার (কনট্রা প্যাকেজ-৪) চেয়ে দ্রুতগতিতে চলছে। এ প্যাকেজে এ পর্যন্ত ৫৫০টির বেশি ফাইলিং হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এ প্যাকেজের সব ফাইলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত প্রথমে দৃশ্যমান হওয়ার কথা ছিল আগারগাঁওয়ের একটি স্প্যান। কিন্তু এ প্যাকেজটির কাজ অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে হওয়ায় প্রথমে দৃশ্যমান হয়েছে দিয়াবাড়ির স্প্যানটি।

প্রকল্প সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। বিদ্যুৎচালিত এ ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় গড়ে ৩২ কিলোমিটার। এ রুটে ৬টি করে বগির ১৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটিতে এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী পারাপার করতে পারবে। এর মধ্যে আসনে বসতে পারবে ৯৪২ জন এবং দাঁড়িয়ে থাকবে ৭৫৪ জন। প্রতি চার মিনিট পর পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এতে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৩০ হাজার করে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল.কম)/-