বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের বীরত্ব ও তার লাশ দেশে আনার গল্প

আজ ২০ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন তিনি।

মতিউর রহমান সম্পর্কে প্রয়াত মিসেস জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ‘কোনো কোনো মানুষ জন্মায় ভবিষ্যতের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। তার চারপাশের সবকিছুর প্রতি তার যে মনোযোগ থাকে না, এমন নয়। বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান প্রভৃতি তার জীবনের কেন্দ্রে সে পরিপূর্ণভাবে সজাগ থাকে, দায়িত্ব পালন করে। যার যার প্রাপ্য তাকে দেয়। এসব সত্ত্বেও তার দৃষ্টি প্রসারিত হয়ে থাকে সামনের দিকে। চারপাশের গন্ডির ভেতরে আবদ্ধ সবকিছুর উপর দিয়ে দূরে, অনেক দূরে। ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান বীরশ্রেষ্ঠ এমনই একজন মানুষ ছিলেন।’

পাকিস্তান সরকার মতিউর রহমানকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে করাচিতে মাসরুর এয়ার বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গোরস্তানে তাকে কবর দেয়। আর তার কবরের উপর লেখা ছিলো, “ইধার সো রাহা হে এক গাদ্দার” (এখানে শুয়ে আছে এক বেঈমান)।

বাংলাদেশে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ৫ জনের কবর বাঙ্গাদেশের মাটিতে হলেও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের কবর থেকে যায় পাকিস্তানের করাচিতে বিমানবাহিনীর কবরস্থানে। ফলে কেউ পাকিস্তান গেলেও যেখানে ঢুকতে পারতো না।

বছরের পর বছর ধরে অযত্ন, অবহেলায় পড়ে ছিল এই বীরের কবর।

শহীদ মতিউরের কবরে কাছে যেতে চেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেদন করা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের কাছে এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে বলা হয়।

খালেদা জিয়া সরকারের প্রথম মেয়াদে ১৯৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি অনুমোদন করে পাকিস্তানে শহীদ মতিউরের কবরের কাছে তার পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের মেয়ে মাহীন, তার স্বামী ফয়সাল খন্দোকার ও তাদের ছেলে রাশাদ পাকিস্তানে মতিউর রহমানের কবর জিয়ারতের সুযোগ পান।

কবর দেয়ার ২৩ বছর পর পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান।

কিন্তু দ্বিতীয় দিন যাওয়ার সময়ই তারা অনেক বাধা পান।

এরপর থেকে ফ্লাইট লে. মতিউর রহমানের দেহাবশেষ আনার বিষয়টি আলোচনায় আসতে থাকে। বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে চেষ্টা করতে থাকেন।

শহীদের স্ত্রী মিলি রহমান পত্রিকায় লিখে, স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আগ্রহে বিষয়টি গতি পায়।

২০০৬ সালের মার্চে পাকিস্তান সফরকালে পাকিস্তানী সরকারের সঙ্গে তিনি সরাসরি এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একটি টিম পাকিস্তানে যায়। তারা বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন ২৪ জুন।

কবর থেকে লাশ বা দেহাবশেষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়ার বিষয়টি নতুন ঘটনা নয়।

বায়তুল মোকাররমের খতিব উবায়দুল হক ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একে বৈধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশের ভেতরেও এর উদাহরণ আছে।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লাশ চট্টগ্রামে দুর্গম স্থানের কবর থেকে তুলে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

ইতিহাসে লাশ বা দেহাবশেষ বহনের বড় উদাহরণ ফরাসি শাসক নেপোলিয়ন বোনাপার্টের লাশ। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলু যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে তাকে নির্বাসনে যেতে হয় সেন্ট হেলেনা দ্বীপে। সেখানেই নিঃসঙ্গ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় ৫ মে ১৮২১ সালে। এর প্রায় ঊনিশ বছর পর ১৮৪০ সালে তার লাশ ফ্রান্সে আনা হয় রাষ্ট্রীয় সম্মানে।

বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক অস্কার ওয়াইল্ডের লাশও স্থানান্তরিত হয়। কোরিয়ান ওয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত আমেরিকান সৈন্যদের লাশ পাঠানোর ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।

কয়েক হাজার বছর আগে মারা যাওয়া ইজিপশিয়ান ফারাওদের মামি সে দেশে ফিরিয়ে দেয়ার একটি দাবির কথাও সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে।

কথিত আছে, আলেকজান্ডার দি গ্রেট বিশ্ব জয় করার শেষ প্রান্তে এসে তার সহযোগীদের বলেছিলেন, যদি আমি মারা যাই তবে লাশ নিয়ে ফেরার পথে আমার ডান হাত বাইরে বের করে রেখো। যেন মানুষ বুঝতে পারে বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার আজ ঘরে ফিরছে শূন্য হাতে।

প্রচলিত এ বক্তব্যের সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের অনেক পার্থক্য আছে। ৩৫ বছর পর তিনি ঘরে ফিরলেন।

তবে শূন্য হাতে নয়, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় উজার করা ভালোবাসায় পূর্ণ হয়েই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।

এদেশের মানুষকে তার মতো বীরেরা জীবনের বিনিময়ে এদের দিয়েছেন। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ-স্বাধীনতা।

মতিউরের দেহাবশেষ ২৪ জুন ২০০৬ সাল রাতে পাকিস্তান থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছে। দেশের মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা গ্রহণ করেন।

পরদিন সকালে প্যারেড স্কোয়ারে দোয়া ও দর্শনার্থীদের জন্য তা কিছুক্ষণ রাখা হয়।

যদিও এ সময় অতিরিক্ত কড়া নিরাপত্তার কারণে অনেকের পক্ষেই কফিনের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

ন্যাশনাল প্যারেড স্কোয়ার এক সময় পরিচিত ছিলো কুর্মিটোল এয়ারপোর্ট হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে মতিউর রহমান বাংলাদেশ ছাড়ার সময় এ এয়ারপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন।

৩৫ বছর পর তিনি সেই এয়ারপোর্টেই এসে কিছুটা সময় থাকলেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবার জন্যই একটি অসাধারণ ঘটনা।

বিশেষ করে দেশের স্বাধীনতার পর জন্ম নেয়া প্রজন্মের জন্য এ এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।

দেশের জন্য শহীদ হওয়া সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত এক বীরের মৃত্যুর ৩৫ বছর পর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার বিষয়টি এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দেয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সংরক্ষিত অংশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠদের গ্রামে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে সময় কাটছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমানের।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর মতিউর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনায় একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে তার।

কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরে মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর’ করার যে দাবি জানিয়ে আসছেন, তা আজও পূরণ হয়নি।

মিলি রহমান বর্তমানে ঢাকার মনিপুরীপাড়ায় বসবাস করেন। তার দুই সন্তান মাহিন মতিউর ও তুহিন মতিউর বর্তমানে প্রবাসে।

ঢাকার মনিপুরীপাড়ায় যে বাসটিতে মিলি রহমানের বসবাস, সে বাসাটির প্রায় সর্বত্রই সাজানো হয়েছে মতিউরের স্মৃতিচিহ্ন।

ড্রইংরুমের দেয়ালে বাঁধানো পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি এফ-৮৬ ও একটি টি-৩৭ বিমান।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ২০ আগস্ট। ১৯৭১ সালের এই দিনে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন তিনি।

মতিউর রহমান পাকিস্তানের করাচির মশরুর বিমান ঘাঁটি থেকে একটি প্রশিক্ষণ বাহিনী নিজের করায়ত্তে নিয়ে দেশে আসার সময় সেটি বিধ্বস্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন।

ভারতীয় সীমান্তের ৩৫ মাইল দূরে থাট্টায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। তার মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে পাওয়া যায়।

মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের “মোবারক লজ”-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে। যা এখন মতিনগর নামে পরিচিত। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পাস করার পর সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ডিস্টিংকশনসহ মেট্রিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

তিনি ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।

১৯৬৩ সালে রিসালপুর পি,এ,এফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কমিশন প্রাপ্ত হবার পর তিনি করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) এয়ার বেজ এর ২ নম্বর স্কোয়ার্ডন এ জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত হন।

এখানে তিনি টি-৩৩ জেট বিমানের উপর কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ৭৫.৬৬% নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হন।

এরপর তিনি এফ-৮৬ স্যাবর জেট এর উপরেও কনভার্সন কোর্স করেন এবং ৮১% নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হন।

বৈমানিক কনভার্সন কোর্স এ ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে তাকে পেশোয়ারে (১৯ নং স্কোয়ার্ডন) এ পোস্টিং দেয়া হয়।

১৯৬৫ তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ফ্লাইং অফিসার অবস্থায় কর্মরত ছিলেন। এরপর মিগ কনভার্সন কোর্সের জন্য পুনরায় সারগোদায় যান।

সেখানে ১৯৬৭ সালের ২১ জুলাই তারিখে একটি মিগ-১৯ বিমান চালানোর সময় আকাশে সেটা হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে দক্ষতার সাথে প্যারাসুট যোগে মাটিতে অবতরণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

ইরানের রানী ফারাহ দিবার সম্মানে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত বিমান মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি পাইলট।

রিসালপুরে দু’বছর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে কাজ করার পর ১৯৭০ এ বদলি হয়ে আসেন জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হয়ে।

১৯৭১ সালের শুরুতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর রহমান সপরিবারে ঢাকায় দুই মাসের ছুটিতে আসেন।

২৫ মার্চের কালরাতে তিনি ছিলেন নরসিংদীর রায়পুরার রামনগর গ্রামে৷ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সাথে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুললেন৷ যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকলেন ৷

তিনি দৌলতকান্দিতে জনসভা করেন এবং বিরাট মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজারে যান।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ বাহিনী।

পাক-সৈন্যরা ভৈরব আক্রমণ করলে বেঙ্গল রেজিমেন্টে ই,পি,আর-এর সঙ্গে থেকে প্রতিরোধ বুহ্য তৈরি করেন।

১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনী এফ-৮৬ স্যাবর জেট থেকে তাদের ঘাঁটির উপর বোমাবর্ষণ করে৷ মতিউর রহমান পূর্বেই এটি আশঙ্কা করেছিলেন৷ তাই ঘাঁটি পরিবর্তন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান তিনি ও তার বাহিনী৷

এরপর ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা আসেনও ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান৷ কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে জঙ্গি বিমান দখল এবং সেটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

তাকে তখন বিমানের সেফটি অফিসারের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।

তিনি বিমান দখলের জন্য ২১ বছর বয়সী রাশেদ মিনহা্জ নামে একজন শিক্ষানবীশ পাইলটের উড্ডয়নের দিন (২০ই আগস্ট, ১৯৭১) টার্গেট করেন।

তার পরিকল্পনা ছিলো মিনহাজ কন্ট্রোল টাওয়ারের অনুমতি পেয়ে গেলে তিনি তার কাছ থেকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেবেন।

পরিকল্পনা অনুসারে অফিসে এসে শিডিউল টাইমে গাড়ি নিয়ে চলে যান রানওয়ের পূর্ব পাশে৷

সামনে দুই সিটের প্রশিক্ষণ বিমান টি-৩৩। পাইলট রাশেদ মিনহাজ বিমানটি নিয়ে দ্বিতীয় বারের মত একক উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কন্ট্রোল টাওয়ার ক্লিয়ারেন্সের পর মিনহাজ বিমানটি নিয়ে রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিলে মতিউর রহমান সেফটি অফিসারের ক্ষমতাবলে বিমানটি থামাতে বলেন।

মিনহাজ বিমানটি থামান এবং ক্যানোপি (জঙ্গি বিমানের বৈমানিকদের বসার স্থানের উপরের স্বচ্ছ আবরন) খুলে বিমান থামানোর কারণ জানতে চান।

এসময় মতিউর রহমান বিমানের ককপিটে চড়ে বসেন এবং রাশেদ মিনহাজকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করে ফেলেন।

জ্ঞান হারানোর আগে রাশেদ মিনহাজ কন্ট্রোল রুমে জানাতে সক্ষম হন তিনিসহ বিমানটি হাইজ্যাক হয়েছে।

বিমানটি ছোট পাহাড়ের আড়ালে থাকায় কেউ দেখতে না পেলেও কন্ট্রোল টাওয়ার মিনহাজের বার্তা শুনতে পায় এবং রাডারে বিমানের অবস্থান বুঝে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে।

মৃত্যু আসন্ন জেনেও মতিউর রহমান বিমানটি নির্ধারিত সীমার নিচে চালিয়ে রাডার কে ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আসার চেষ্টা করেন।

প্রায় ভারতের সীমান্তে পৌঁছে যাওয়া অবস্থায় রাশেদ মিনহাজ জ্ঞান ফিরে পান এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেন।

রাশেদ চাইছিলেন, মতিউর রহমানের বিমান ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সফল হওয়ার চেয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করা ভালো।

এ সময় রাশেদের সাথে মতিউরের ধ্বস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রাশেদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন।

বিমানটি কম উচ্চতায় উড্ডয়ন করার ফলে একসময় রাশেদ সহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

মতিউর রহমানের সাথে প্যারাসুট না থাকায় তিনি নিহত হন। তার মৃতদেহ ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যশোর বিমান ঘাটি তারঁ নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিমান বাহিনী তার নামে একটি ট্রফি চালু করেছে। বিমান প্রশিক্ষনে সেরা কৃতিত্ব প্রদর্শনকারীকে এটি প্রদান করা হয়।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-