২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং

বিদায় ২০১৯, স্বাগত ২০২০

ডিসে ৩১, ২০১৯

আজ আমাদের জীবন থেকে বিদায় নেবে আরেকটি খ্রিস্টীয় বছর। ২০১৯ সালের শেষ সূর্যটি গোধূলির পর হারিয়ে যাবে মহাকালের গর্ভে। আর রাত ১২টা পেরোলেই শুরু হবে নতুন খ্রিস্টীয় বছর ২০২০। আজ রাত ১২টা পেরোলেই শুরু হবে নতুন খ্রিস্টীয় বছর ২০২০। আর ভোরবেলাতেই উদয় হবে নতুন বছরের নতুন সূর্য।

খ্রিস্টীয় বছর, গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী, গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জী, পাশ্চাত্য বর্ষপঞ্জী, ইংরেজি বর্ষপঞ্জি বা খ্রিষ্টাব্দ হল আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় সর্বত্র স্বীকৃত বর্ষপঞ্জী। ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রোগোরির এক আদেশানুসারে এই বর্ষপঞ্জীর প্রচলন ঘটে। সেই বছর কিছু মুষ্টিমেয় রোমান ক্যাথলিক দেশ গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে এবং পরবর্তীকালে ক্রমশ অন্যান্য দেশসমূহেও এটি গৃহীত হয়।

পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি কর্তৃক বর্ষপঞ্জী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ছিল কারণ পূর্ববর্তী জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর গণনা অনুসারে একটি মহাবিষুব থেকে আরেকটি মহাবিষুব পর্যন্ত সময়কাল ধরা হয়েছিল ৩৬৫.২৫ দিন, যা প্রকৃত সময়কাল থেকে প্রায় ১১ মিনিট কম। এই ১১ মিনিটের পার্থক্যের ফলে প্রতি ৪০০ বছর অন্তর মূল ঋতু থেকে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর প্রায় তিন দিনের ব্যবধান ঘটত। পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির সময়ে এই ব্যবধান ক্রমশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১০ দিনের এবং ফলস্বরূপ মহাবিষুব ২১ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চ পড়েছিল। যেহেতু খ্রিস্টীয় উৎসব ইস্টারের দিন নির্ণয়ের সাথে মহাবিষুব জড়িত সেহেতু মহাবিষুবের সাথে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর এই ব্যবধান রোমান ক্যাথলিক গির্জার কাছে অনভিপ্রেত ছিল।

গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জীর সংস্কার দু’টি ভাগে বিভক্ত ছিল: পূর্ববর্তী জুলিয়ান বর্ষপঞ্জীর সংস্কার এবং ইস্টারের তারিখ নির্ণয়ের জন্য গির্জায় ব্যবহৃত চান্দ্র পঞ্জিকার সংস্কার। জনৈক চিকিৎসক অ্যালয়সিয়াস লিলিয়াস কর্তৃক দেয় প্রস্তাবের সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে এই সংস্কার করা হয়।

আমাদের জীবনের সব কর্মকাণ্ড ইংরেজি সালের গণনায় হয়, তাই খ্রিস্টীয় বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় বিদায়ী বছরটা কেমন গেল তার হিসাব কষবেন অনেকেই। ভালো, মন্দ, আনন্দ, বেদনার স্মৃতিগুলো আরো একবার রোমন্থন করবেন। একইভাবে জীবনের সব ধরনের নেতিবাচক বিষয়গুলোকে দূরে ঠেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় নতুন করে পথচলার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন।

২০১৯ সালের সর্বশেষ দিন আজ। যার যার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ভাবনায় বছরটি নানাভাবে মূল্যায়িত হবে। তবে আমাদের জাতীয় জীবনে বিদায়ী বছরটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০১৯ বেশ ঘটনাবহুল একটি বছর। নানা ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে, ঘটেছে উত্থান-পতনের ঘটনা। তারপরও এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

শেষের ঘটনা দিয়ে শুরু করলে বলতে হয়- আরো একবার ডাক দিচ্ছে নির্বাচন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা। তাই এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে সর্বত্র।

বিদায়ী বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি। নানাভাবে আলোচিত হলেও তার মুক্তি মেলেনি। বিএনপি শুরু থেকেই এটাকে বলে এসেছে সরকারের কূটকৌশল আর আওয়ামী লীগ সব সময়ই বলে এসেছে এটা বিচারিক বিষয়।

ভৌগোলিক রাজনীতিতে ভারত উপমহাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভারত সরকারের নতুন নাগরিকত্ব আইন সেখানে জনরোষের জন্ম দিয়েছে। যার আঁচ এসেছে তার আশপাশের দেশেও। রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিকভাবে ধিকৃত হয়েছে।

আর বিশ্ববাসী দেখেছে কিভাবে আদালতে অং সান সু চি মিথ্যার অবতারণা করেছে। বছরজুড়ে দেশে আলোচনায় ছিল ডেঙ্গু। ডেঙ্গুর প্রকোপে মারা গেছে অনেক মানুষ। উৎকণ্ঠায় কেটেছে দেশবাসীর সময়। ফেনীতে ঘটে যাওয়া নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড ও বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে।

এছাড়া সারা বছরই নেতিবাচক অবস্থার কারণে বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে শেয়ারবাজার। ঘটনাবহুল ২০১৯ চলে যাচ্ছে। আরেকটি নতুন বছর আসছে জাতির জীবনে।

সবার প্রত্যাশা নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে যে যাত্রা শুরু করেছে তা অব্যাহত থাকবে নতুন বছরেও। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার লক্ষ্যে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

পঞ্জিকা

July 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031