বিদায় কবি আল মাহমুদ

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। শুক্রবার রাত ১১টা ০৫ মিনিটে ঢাকার ধানমণ্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবির পারিবারিক বন্ধু আবিদ আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আল মাহমুদকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত শনিবার রাতে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে সিসিইউ’তে রাখা হয়েও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ওইদিন রাত ৪টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউ’তে স্থানান্তর করেন। তিনি ইবনে সিনার নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবদুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

দেশবরেণ্য এই কবি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত বেশকিছু রোগে ভুগছিলেন। তার কিডনি ও লিভারে আগেই থেকে ইনফেকশন ছিল।

আল মাহমুদ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। এই মুক্তিযোদ্ধা কবি স্বাধীনতার পর দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন ইত্যাদি।

কবি আল মাহমুদআধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক তিনি।

আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি ব্যবসায়ী পরিবারে ১১ জুলাই ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত এ শহরে এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার অন্তর্গত জগতপুর গ্রামের সাধনা হাইস্কুলে এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এ সময়েই লেখালেখি শুরু।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার ৩০ দশকীয় ভাবধারায় ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ দৃৃশ্যপট, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের কর্মমুখর জীবনচাঞ্চল্য ও নর-নারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহের বিষয়কে অবলম্বন করে আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোয় অত্যন্ত স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের সুন্দর প্রয়োগে কাব্যরসিকদের মধ্যে নতুন পুলক সৃষ্টি করেন।

তিনি ১৯৭১-এর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।সদ্যস্বাধীন দেশে সাহসী দৈনিক গণকণ্ঠের সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছিলেন দৈনিক কর্ণফুলীর সম্পাদক।১৯৭৫-এ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে যোগদান করেন। পরে ওই বিভাগের পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে অবসর নেন। কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই মিলিয়ে শতাধিক বইয়ের রচয়িতা তিনি।লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদসাহিত্যকর্মের জন্য পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, জয়বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, সুফী মোতাহের হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

169total visits,1visits today