বত্রিশটা বছর ভালবাসার বন্ধনে আসিফদের আবদ্ধ রেখেছে রাজু

মেয়েটার নাম রাজু, পাশের গ্রামের মেয়ে। খুব ছোট বয়সে আমাদের বাসায় এসেছে। আম্মার সাথে থেকে পরিবারকে সর্বোচ্চ সার্ভিস দিয়েছে। আব্বা আম্মার চূড়ান্ত অসুস্থ্যতায় রাজু’র ভূমিকা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরন করি। এমনকি আমাদের বিয়ের সময় থেকে রণ’র জন্ম অব্দি রাজু’র ভূমিকা ভুলে যাবার মত নয়।

রাজু চেয়েছিল আমার পরিবারের সাথে থাকতে। আব্বা আম্মার মৃত্যুতে একটা সময় রাজুকে চলে যেতে হয়েছে আমার ফুপাতো ভাইয়ের বাসায়। ওখানে থেকে এখনো সে আমাদের পরিবারকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

রাজু সুখী হতে পারেনি, জামাই ভাগ্য ভাল ছিলনা। আমরা চেয়েছিলাম সংসারী হোক মেয়েটা। ওর একমাত্র ছেলে ইউসুফ এখন বড় হয়ে কাজে যোগদান করেছে। নিজের ছেলেকে যতটুকু সম্ভব আগলে রেখে আজো পর্যন্ত আমাদের পরিবারকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

রাজুর কোন অভিযোগ নেই, কোন চাহিদাও নেই। আমরা আনন্দে থাকলেই সে খুব খুশী। এখনকার দুনিয়ার এ ধরনের ভালবাসা সত্যিকার অর্থে খুব বিরল।

রাজু এখনো হাসিমুখে আমাদের পরিবারের সাথে আছে। সমস্ত বাচ্চাদের দিকে তার সতর্ক নজরদারী। নিজের সন্তানের মত করে আমাদের সন্তানদের ভালবেসেছে।

ছোট্টবেলার রাজু আমার ফরমায়েশে কোন গাফিলতি করেনি, চাচ্চু ডাকে আমাকে। অন্তত বত্রিশ’টা বছর রাজুর ভালবাসার কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ আমরা।

মায়াবী একটা ছোট্ট মেয়ে থেকে রাজু আমাদের জননী সমতূল্য সম্মানে আছে। প্রত্যেকটা পারিবারিক অকেশনে রাজু’র উপস্থিতি আলো ছড়ায় নিয়মিত। পরিবারের গূরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ওর একটা মতামত নেয়া হতো কখনো কখনো। সে সবসময়ই সৎ ছিল তার নিয়তে।

আমার ভাতিজীর বিয়েতে রাজু’র সাথে দেখা হতেই সে ছবি তোলার আবদার করলো। আমার মোবাইলে একটাই ছবি তুলেছি সেদিন, সেটা রাজু’র সঙ্গেই।

আমার যাপিত জীবনের বর্তমান রঙ্গীন ছবিগুলোর ভিতরে এই রাজু’র দেয়া ভালবাসাগুলো অনেক উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করে। শিক্ষাদীক্ষা না থাকলেও মেয়েটা পজিটিভ চিন্তার অধিকারী, ওর বিচার বিশ্লেষন ক্ষমতা অসাধারন।

রাজু’কে বললাম- আজকে তুই আমার ভিআইপি, তোর সঙ্গে ছবি না তুললে কার সঙ্গে তুলবো ! নিমকহারামীর এই দুনিয়ায় একটা রাজু’র সাময়িক সান্নিধ্য পাওয়াও অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার, আলহামদুলিল্লাহ। ভাল থাকিস রাজু, তুই নিতে নয়, দিতে এসেছিস আমাদের জীবনে।

কোনদিন খুব অসহায় আর নি:সঙ্গ হয়ে গেলে তোর মায়ার আঁচলের আশ্রয়ে আবার ফিরে যাব। তুই আগলে রাখিস সবসময়ের মত…

ভালবাসা অবিরাম…

(আসিফ আকবর, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email