বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও মৃত্যুঝুঁকি

মাত্র এক বছরে শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি হয়েছে দেশে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার। মানসিক স্বস্তি, ফার্মেসির বিক্রেতার পরামর্শ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ঢালাও প্রেসক্রিপশনের কারণেও বাড়ছে বিপুল বিক্রি। বিনা কারণে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ রক্তের স্বল্পতা, হাড় ক্ষয় থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটাতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সুস্থ কিংবা অসুস্থ যাই হোক, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে অন্তত চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না রোগীরা। ওষুধ বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের মোট বিক্রি হওয়া ওষুধের অন্তত ২০ শতাংশই গ্যাস্ট্রিকের। জরিপ বলছে, ২০১৯ এর জুলাই থেকে ২০২০ এর জুন পর্যন্ত দেশে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিক্রি হওয়া ওষুধের অর্ধেকই মানুষ খাচ্ছে অপ্রয়োজনে। বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। সুনির্দিষ্ট গবেষণা না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের অন্তত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রেসক্রিপশনে গ্যাস্টিকের ওষুধ লিখছেন চিকিৎসকরা। যথার্থ পর্যবেক্ষণ ছাড়া রোগীকে ঢালাওভাবে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান তাদের।

ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজলসহ প্রায় প্রতিটি ব্র্যান্ডের গ্যাস্ট্রিকের একেকটি ওষুধের খুচরা মূল্য ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। অপ্রয়োজনে এবং অভ্যাসবশত এসব ওষুধ খেয়ে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ শারীরিক ও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডাঃ মোঃ মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, আমরা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাই সকালে, রাতে, খালি পেটে, ভর পেটে, বিয়ের দাওয়াতে, বাসায়, পেট ব্যাথা করলে, পেটে গ্যাস হলে, পেট জ্বললে, বুক জ্বললে, ঠিকমতো পায়খানা না হলে খাই। বলতে পারি, এটা খাওয়া নেশা হয়ে গেছে, ইয়াবার চেয়েও যেন ভয়ংকর নেশা!

ডাঃ মোঃ মমিনুল হাসান হিমেল বলেন, এই ওষুধগুলোর আসল কাজ হলো, আপনার পাকস্থলীর অ্যাসিডের ক্ষরণ কমানো, যা আপনার খাবার পরিপাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা আলসার এবং ‌অন্যান্য রোগে সুনির্দিষ্ট কারণে এই ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। আপনি নিজ থেকে এগুলো খেতে থাকলে আপনার অ্যাসিডের ক্ষরণ কমতে থাকবে, কমতে থাকবে হজম শক্তি। একসময় দেখবেন আপনার খাবার হজম হচ্ছেই না!

তিনি বলেন, এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে অনেক! যেমন, মাথাব্যথা, ডায়েরিয়া, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, জ্বর, বমি, ফুসকুড়ি— এসব সাধারণ সাইড ইফেক্ট। এমনকি কোলনে ইনফেকশন, হাড়ক্ষয়, ভিটামিনের অভাব, হার্টঅ্যাটাক, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, অগ্নাশয়ের প্রদাহ, যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাস ইত্যাদি সমস্যাও হতে পারে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email