ফুলকপি চাষে লাভবান টাঙ্গাইলের কৃষকরা

চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে ফুলকপির আবাদ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। জেলার ১২টি উপজেলায় আবাদ হয়েছে এ শীতকালীন সবজি। আর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে ফুলকপি কম উঠেছে। ফলে, সবধরণের সবজির দামই বেশি। এতে খুশি প্রান্তিক চাষিরা।

চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপির আবাদ হয়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে।

জেলার চরাঞ্চল ছাড়াও এবার বাসাইলের বিভিন্ন এলাকায় আবাদ হচ্ছে এ সবজি। ধানের আবাদে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও, ফুলকপি আবাদ করে পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। আর বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। তবে রাস্তাঘাট ভালো না থাকায় সবজি বাজারজাত করণে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের ঝাটিবাড়ী গ্রামের জীবন আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার আমি ১২০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। ৪০ টাকা কেজিতে ফুলকপি বিক্রি করে ভালো লাভবান হচ্ছি।

এদিকে বর্তা গ্রামের আরেক কৃষক মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি শীতকালীন সবজির সঙ্গে একই জমিতে কয়েক রকমের শাক-সবজি এমনকি আখের চারাও রোপণ করেছেন। ফুলকপির ফলন উঠানোর পর পর তিনি আখের ফলন তুলে অধিক লাভবান হওয়ার আশা পোষণ করছেন।

তিনি জানান, সিরাজুগি, পুইশা, চুনস্টার, ফাইভস্টার, অটোম, আর্লিচ, হামাজুগি প্রভৃতি জাতের ফুলকপি রোপণের ৫০ থেকে ৭০ দিনে ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কপির চারা রোপণ করা যায়। এবার প্রতি কেজি ফুলকপি ৪০ ও প্রতি পিস বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে লাভ ঘরে তোলার আশা করছি। অল্প দিনে ফলন পাওয়ায় অনেক কৃষক মৌসুমে ২ বার ফুলকপির ফলনও তুলে থাকেন।

কালিহাতী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার বলেন, এ বছর ৬২০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ হয়েছে। ফলন খুবই ভালো। দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক। আশা করি আগামীতে চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো অন্যান্য উচ্চ মূল্যের ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কৃষককে উৎসাহিত করছেন। ৬০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও ৫০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ করছেন কৃষক।

তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি উপজেলায় দুটি করে নিরাপদ সবজি গ্রাম ও একটি করে ফলন গ্রাম প্রতিষ্ঠায় যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ বৃদ্ধিতে আরও বেশি সহায়ক হবে বলে আশা করছি। এরই মধ্যে উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের ব্রজগাতী গ্রামে একটি ও কোকডহরা ইউনিয়নের বলধী গ্রামে আরেকটি ‘নিরাপদ সবজি গ্রাম’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এদিকে বাংড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামে ‘ফলগ্রাম’ প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপজেলায় দুটি নিরাপদ সবজি গ্রাম ও একটি ফলগ্রাম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্য গ্রামেও সবজির চাষাবাদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা রাখছি।

বাসাইল উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ফুলকপিসহ সব ধরণের সবজি আবাদে কৃষকদের প্রযুক্তিগত নানা সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, সবার আগে দরকার নিরাপদ খাদ্য। বিষমুক্ত সবজি আবাদে উৎসাহ প্রদান করতে হবে কৃষকদের।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-