প্রাথমিকে এমসিকিউ বাদে নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিন্যাস প্রকাশ করেছে সরকার

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দিয়ে পরিমার্জিত প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিন্যাস প্রকাশ করেছে সরকার। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) এ নতুন কাঠামো প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক নতুন এ প্রশ্নপত্রের কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়।

পরিমার্জিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে নতুন ধারার যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। এমসিকিউ প্রশ্ন বাদ দেয়া হলেও পরীক্ষার সময় আগের মতোই আড়াই ঘণ্টা থাকবে। এ বছর থেকেই নতুন কাঠামোয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে।

এতদিন প্রাথমিক সমাপনীতে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ২০, গণিতে ২০ এবং সমাজ, বিজ্ঞান ও ধর্মে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো। গত বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার দিন সকালে ফাঁস হয়ে যায়। অল্প সময়েই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এরই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জেএসসি-জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষাতেও।

প্রশ্ন ফাঁস মহামারীর আকার ধারণ করায় প্রশ্ন পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। পরীক্ষার ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্ন ফাঁস হলে সেখান থেকে সহজেই বহুনির্বাচনী অংশের উত্তর দেয়ার সুযোগ থাকে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও প্রাথমিক স্তরের পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেয়ার সুপারিশ করে।

পরবর্তীতে ২ এপ্রিল চলতি বছর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) থেকে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই সময় প্রাথামিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে গুণীদের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এখন আগের মতোই সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগের সব ব্যবস্থাই যে মন্দ ছিল, তা নয়। আগে যেকোনো একটা প্রশ্ন করে বলা হতো— তিন লাইন বা পাঁচ লাইন লিখ। তাতে ওই ছেলে বা মেয়েটির লেখা ও পড়া এবং বোঝার ক্ষমতা পাওয়া যেত। সেই পদ্ধতিতে যাওয়ার জন্য মনোযোগ দিয়ে কাজ করছি। আমরা চাই একটা নকলমুক্ত পরিবেশে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিক।

(বণিকবার্তা, ঘাটাইল.কম)/-

Print Friendly, PDF & Email