প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে রাজনীতিকদের মিলনমেলা

প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্র অনুষ্ঠানে অতিথিদের বসার জন্য গণভবনের সবুজ লনে চেয়ার, টেবিল, মোড়া, মাদুরের ব্যবস্থা করা হয়। অতিথিদের ফুচকা, চটপটি, পাঠিসাপটা পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, জিলাপি, কাবাব-রুটি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলকে আবহমান বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি বাজানো হয় দেশের গান।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ির দক্ষিণের সবুজ লনের এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দলসহ ১৪ দলীয় জোট, মহাজোট ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর চা চক্রে ৫৪টি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ ব্যতীত সকল রাজৗনতিক দলই চা চক্রে যোগদান করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে চা চক্রে যোগদানকারি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে আপনারা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনাদের উপস্থিতি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ।’

প্রধানমন্ত্রীর চা চক্রের আয়োজন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রীর এই শুভ উদ্যোগে আপনারা সকলেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত সংলাপের মাধ্যমে খোলামেলা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ‘নির্বাচন শেষে আমরা সহযোগিতা চেয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্বাচনের সময় জাতির কাছে দেয়া ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করতে চান। আমাদের সকল নেতৃবৃন্দের পক্ষে আমি এজন্য আপনাদের সবার কাছে সব রকম সহযোগিতা কামনা করছি।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সেখানে খোলামেলা মনে আলোচনা করেছেন। আমি মনে করি, এটা ভবিষ্যতে রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু চা-চক্র। ইনফরমাল ওয়েতে (অনানুষ্ঠানিকভাবে) আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে মিশেছি। সৌহার্দ্যের যে বন্ধন সেটা আরও দৃঢ় হয়েছে।’

জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভালো। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে একটা রিসোর্টে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যেখানে তার নিরাপত্তার কোনও সমস্যা হবে না, এ রকম কোনও একটি জায়গা। ওই দিনের দাওয়াতে আজকে যারা ছিলেন সবাই থাকবেন।’

চা-চক্রে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমুর হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নূরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মতিন খসরু।

চা-চক্র অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিরোধী দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, জাপা নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন বাবলু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সুনীল শুভ রায়, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদ (আম্বিয়া) নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল, নাজমুল হক প্রধান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদোজ্জা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) এমএ মান্নান, মাহী বি চৌধুরী এবং শমশের মুবীন চৌধুরী, বিএনএফ প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, ১৪ দলের নেতা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

146total visits,1visits today