প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণপিটুনিতে নিহত ভুঞাপুরের মিনুর স্ত্রীর আবেদন

ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত ভ্যানচালক মিনু শেখ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। মিনুকে হারিয়ে ৭ বছরের ছেলে ও বৃদ্ধ শ্বশুরকে নিয়ে চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন বলে জানানা নিহতের স্ত্রী রিনা আক্তার। মিনু শেখ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

মিনুর অন্তঃস্বত্বা স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ছিলেন একজন পরিশ্রমি মানুষ। পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। তিনি কোনও অপকর্মের জন্য মারা যাননি। তিনি গুজবে মারা গেছেন। গুজব ঠেকানো দায়িত্ব সরকারের। তিনি দেশের জন্যই মারা গেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্বামী হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন, রাস্তা ও ঘরে বন্যার পানি ঢুকায় মিনুর ভ্যান চালানো বন্ধ হয়ে যায়। আমরাও উঁচু সড়কের পাশে ঠাই নেই। এ অবস্থায় কারেন্ট জাল কেনার জন্য মিনু টাকা ধার করে পাশের বাড়ির শাকের শেখকে সঙ্গে নিয়ে ২১ জুলাই কালিহাতী বাজারে যায়। ওই হাটে ১০-১১ বছরের এক ছেলে মিনুর পকেট থেকে টাকা চুরি করার সময় তার হাত ধরে ফেলেন তিনি। এসময় ছেলেটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা আমার স্বামীকে ছেলেধরা ভেবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও মানুষগুলো তাকে ছাড়েনি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতেন তাহলে বৃদ্ধ শ্বশুর ও সন্তানদের নিয়ে দুমোটো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম। সন্তানদের লেখা পড়া শিখিয়ে মিনুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারতাম।’

এসময় মিনুর বাবা কুরবান আলী শেখ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মিনুর স্ত্রী, সন্তান ও আমাগো দেখার আর কেউ রইল না। মিনু তার সন্তানদের মানুষ করে যেতে পারলো না। আমার ছেলেকে যারা বিনা অপরাধে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।’

কাউন্সিলর শরিফুল আলম সোহেল বলেন, ‘ঘটনার দিন মিনু পাশের বাড়ির শাকের শেখকে সঙ্গে নিয়ে জাল কিনতে যান। ওই ঘটনার পর থেকে শাকের শেখের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে খুঁজে বের করতে পারলেই ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।’

কালিহাতী থানার এসআই ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহত মিনুর পরিবার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই দফায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই মিনু মিয়া কালিহাতীর সয়া হাটে মাছ ধরার জাল কিনতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে মিনু মিয়ার মৃত্যু হয়।

(ভুঞাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-