প্রণব প্রয়াণে রাষ্ট্রীয় শোক বাংলাদেশে

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের তরফে এদিন এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সম্মানে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় শোকদিবস পালন করা হবে। এ দিন অর্ধনমিত থাকবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী সংবাদমাধ্যমের কাছে সরকারি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আপনজন হারাল বাংলাদেশ।’ প্রণববাবুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও তাঁর ব্যক্তিগত বহু স্মৃতির কথা সোমবার স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

শোকবার্তায় হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সবসময় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখোপাধ্যায় আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন। যে কোনও প্রয়োজনে তিনি পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশে ফেরার পরেও প্রণব মুখোপাধ্যায় সহযোগিতা করেছেন। উৎসাহ দিয়েছেন। আবার সংকটে পড়লে তিনি সাহস জুগিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু।

শেখ হাসিনার কথায়, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভারত একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে হারাল। আর বাংলাদেশ হারাল একজন আপনজনকে।’ প্রণববাবু উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই বেঁচে থাকবেন বলে অভিমত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হাসিনা।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ আবদুল হামিদও ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন। সোমবার এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ভোলার নয়।

তিনি মনে করেন, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। প্রবীণ নেতার শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

২২ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেলে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণ তাঁর একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। কিন্তু, তার সঙ্গেই কোভিডের ধাক্কা তিনি শেষ পর্যন্ত সামলাতে পারেননি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-