প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে ঘাটাইলে সংরক্ষিত বনের শাল গজারি

সামাজিক বন ধ্বংসের পর এবার আঘাত হানা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শাল গজারির ওপর। রাতে বা গোপনে নয়, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে শাল গজারি গাছ। কাঠ ব্যবসায়ীদের দাবি, বন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে একটি গাছও কাটা যায় না। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন কর্মকর্তারা। তবে বন কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বনের শাল গজারি গাছ কাটা হচ্ছে অবাধে। তাই বন রক্ষায় রক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুশীল সমাজ।

সামাজিক বন ধ্বংসের পর এবার আঘাত হানা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শাল গজারির ওপর। উপজেলার সাগরদীঘি বিটের অধীনে আগস্ট মাসের কোনো একদিন বড়চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান থেকে প্রকাশ্যে ২৫টি গজারি গাছ কাটেন স’মিল মালিক স্থানীয় ফজল হক। গাছ কাটা শেষে মাটি দিয়ে গুঁড়ি ঢেকে দেন। ওই স্থান থেকে বিট অফিসের দূরত্ব দুই কিলোমিটারের বেশি নয়।

গত ৩০ আগস্ট ঘাটাইল ডট কমে ‘ঘাটাইলে ৪৫ হেক্টর বনভূমির ৩২ কোটি টাকার গাছ উধাও’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে ফজল হক জানিয়েছেন, তিনি গাছগুলো ৪০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। এরপর বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কিন্তু সাগরদীঘি বিটের প্রহরী আমিনুর জানান, বন বিভাগের কাছ থেকে ফজল হক কোনো ধরনের অনুমতি নেননি। এ ছাড়া গাছ কাটার কোনো চিহ্ন না রাখতে ৩০ আগস্ট গুঁড়ি উপড়ে ফেলা হয় ১০-১২ জন শ্রমিক দিয়ে। এ কাজে ফজল হক নিজেই নেতৃত্ব দেন বলে জানান ওই প্রহরী।

এদিকে কাঠ ব্যবসায়ী ফজল মিয়া বলেন, ওই জমি তিনি ফুলমালিরচালা গ্রামের আব্দুল মজিদের কাছ থেকে কিনেছেন।

মজিদ অবশ্য জানিয়েছেন, ওই জমির মালিক তিনি নন। ওইটা বনের জমি। তিনি জানান, গজারি গাছ মানুষ কিনতে চায় না, তাই ২৫ হাজার টাকায় নামমাত্র মূল্যে বছর খানেক আগে গাছগুলো কিনে নেন সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি গাছ কিনিনি। গাছ কিনেছেন আইনউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিক্রি করেছেন ফজল বেপারীর কাছে।

সাগরদীঘি বিট অফিসের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, কবে এবং কখন এ ঘটনা ঘটেছে তা আমার জানা নেই। আগে ঘটনা জানতে হবে। গাছ কাটার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বক্তব্য দিতে হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে।

উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, শাল গজারি আমাদের ঘাটাইলের ঐতিহ্য। এই বনভূমি ধ্বংসের পেছনে যারা প্রত্যেক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-