পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল!

অনেক ধোঁয়াশার পর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিসিবি। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল! কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন থাকায় লম্বা সময় পাকিস্তানে সফর না করে, স্বল্প সময়ের জন্য সফরের পরিকল্পনা করছে বোর্ড। জানা গেছে, সেখানে শুধু তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আর সিরিজের বাকি দুইটি টেস্ট খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিসিবির একটি সূত্র সময় সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই সূত্রটি জানায়, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অনেক ক্রিকেটারের আপত্তির কারণে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার বিষয়ে অস্বস্তি আছে দলের মধ্যে। আর তাই বোর্ড পরিচালকরা সমন্বিতভাবেই ভাবছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দেশটিতে টি-২০ সিরিজ এবং দুবাইয়ে টেস্ট সিরিজ খেলার বিষয়ে তাদের একটি প্রস্তাব দেবে।

আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথম মাসেই পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। যেখানে তিনটি টি-২০ এবং দুটি টেস্ট সিরিজ খেলার কথা। পাকিস্তান চায়, পুরো সিরিজটিই তাদের মাটিতে হোক। কিন্তু পুরো সিরিজটি পাকিস্তানে খেলতে গেলে সেখানে বাংলাদেশ দলকে প্রায় ২৫ দিন অবস্থান করতে হবে।

সূত্রটি জানায়, এই দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার পাকিস্তান সফরে না গেলে পিসিবির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে। আর তাই পাকিস্তানের মাটিতে কেবল টি-২০ সিরিজটি খেলতে চায় বিসিবি। সেটিও পাঁচ সাত দিনের মধ্যেই শেষ করার চিন্তা তাদের।

তবে পাকিস্তান সফরের বিষয়ে বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারের সবুজ সংকেত পেতে হবে তাদের। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অবশ্য মনে করছেন, নারী দল এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দল নির্বিঘ্নে পাকিস্তান সফর করে আসায় জাতীয় দলকেও সবুজ সংকেত দেয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে খোলাসা করে কিছু বলেননি তিনি।

গত সোমবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, পাকিস্তানে প্রতিবেদন আমরা এখনো পাইনি। আমাদের ছোট দল তো খেলে এসেছে। মেয়েদের দলও গেছে। ওদের নিরাপত্তা নিয়ে যেহেতু শঙ্কা ছিলো না তাই ধরে নেয়া যায় জাতীয় দলেরও ক্লিয়ারেন্স থাকবে।

তবে পাকিস্তানের মতো একটি অনিরাপদ দেশে সফরে যাওয়া নিয়ে নিয়ে শঙ্কায় আছেন অনেক ক্রিকেট ভক্তরাও। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত বার্ষিক সন্ত্রাস বিষয়ক প্রতিবেদন বলছে পাকিস্তান সেইফ হেভেন টু ট্যারোরিস্ট বা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গ। ২০১৯ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১৬৩ টি সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৯৪ জন এবং আহত হয়েছে ৪০০ মানুষ। বর্তমানে সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকে বিশ্বের ১১তম দেশ পাকিস্তান। আর ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাতো সবার জানা। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নমনীয় পাকিস্তানে জাতীয় ক্রিকেট দল পাঠাতে। অনেকেই বলছেন, যেকোনোভাবে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার পায়তারা করছে বিসিবি। আর তাই টেস্ট সিরিজটি পাশে সরিয়ে কেবল টি-২০ সিরিজ সেখানে খেলার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে।

সাবেক ক্রিকেটার ইশতিয়াক আহমেদ বলছেন, ক্রিকেট জাতি হিসেবে পাকিস্তানে ক্রিকেটের দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটাতে সহযোগিতা করতে পারে বিসিবি। তবে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া উচিত হবে না বোর্ডের। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই তো থাকা উচিত। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে কমপ্লিটলি জিরো টলারেন্স থাকা উচিত। সামান্যটুকুও যদি সন্দেহ থাকে তাহলে পাঠানো ঠিক হবে না।

এদিকে টেস্ট সিরিজ আবার আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। আর তাই সফরে না গেলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিসিবির এক কর্মকর্তার বরাতে সম্প্রতি খবর প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। যেখানে বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি আমরা সফরে না যাই, তাহলে আমরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সিরিজ আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করতে পারি। যদি বিষয়টি আসে, আমরা আশা করছি আইসিসি আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রায় দশ বছর পাকিস্তান সফর থেকে দূরে থাকে ক্রিকেট দলগুলো। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান সফরে যায়। গত মাসেই সেখানে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলেছে লঙ্কানরা। ডিসেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

(সময়টিভি, ঘাটাইলডটকম)/-