পরকীয়ায় ঘাটাইলের যুবক মোশারফ কালিহাতীতে খুন, গৃহবধু আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়ার জেরে সৌদী প্রবাসী এক যুবক খুন হয়েছেন। নিহত যুবক ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের মাইধাচালা নয়াবাড়ি গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে মোশারফ মিয়া (২৫)। এ ঘটনায় জড়িত একই গ্রামের সৌদী প্রবাসী ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা (৩৫) কে ঘাটাইল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ১৬ আগস্ট আটক করে গতকাল শনিবার (১৭ আগস্ট)  টাঙ্গাইলে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট রবিবার বিকালে কদমতলী গরুর হাট থেকে ফেরার পর রাত ৯টা থেকে নিখোঁজ হন মোশারফ মিয়া। পরদিন ঘাটাইল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করে পরিবার। জিডি ও কললিস্ট সূত্র ধরে প্রতিবেশী সৌদী প্রবাসী ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী ও কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা গ্রামের মৃত মেছের আলী মন্ডলের মেয়ে নাছিমা (৩৫) কে ১৬ আগস্ট রাতে আটক করে ঘাটাইল থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার কথা স্বীকারপূর্বক ৪ আগস্ট রবিবার মোশারফের সাথে দেখা ও ভাই আকতারের পরিকল্পনায়, সহায়তায় খুন হওয়ার বিষয়ে স্বীকার করেন নাছিমা। এবং নিহত মোশারফের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা হওয়ায় ও খুন করে একই গ্রামের গজারিয়া বিলে লাশ বাঁশের সাথে বেঁধে ডুবিয়ে রাখে বলে নাছিমা জানায়।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই সজীব অতি দ্রুত নিহতের লাশ উদ্ধারপূর্বক পরিবারের নিকট হস্তান্তর ও সকল আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি করার পাশপাশি নিহত মোশারফ নাছিমার নিকট পাওনা টাকার চাপের জেরে এ হত্যাকান্ড বলে ঘাটাইলডটকমের নিকট দাবী করেন।

নাছিমাকে মোশারফ কেন টাকা দেবেন (?) সম্পর্কের কারণে কিনা- এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি সজীব।

ঘাটাইলের দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘাটাইলডটকমকে গতকাল শনিবার  জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ঘাটাইলের মানাজী নয়াবাড়ি গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে মোশারফ মিয়া (২৫) কদমতলী গরুর হাট থেকে নিখোঁজ হন। ইতিমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাটাইল থানা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী নাছিমাকে (৩৫) আটক করা হয়েছে। আটককৃতর তথ্যে আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) গজারিয়া (বোজদত্ত) বিলে মোশারফের ডুবিয়ে রাখা লাশ খোঁজ করতে গিয়ে তার পায়ের নিচের একটি অংশ নখ সহ পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে হত্যার পরিকল্পনাকারী নাছিমার বড় ভাই আকতার মাষ্টার মোশারফের লাশ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলে। সারাদিন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনেক চেষ্টার পরও লাশ খুঁজে পায়নি। নাছিমার ভাই আকতারকে আটক করা যায়নি।

ঘাটাইল থানা পুলিশের সহকারি পরিদর্শক শাহিন এ বিষয়ে বলেন, গত ৪ আগস্ট রবিবার রাত ৯টা থেকে নিখোঁজ হন মোশারফ মিয়া। পরদিন ঘাটাইল থানার জিডি নং ২২৬ তারিখ- ৫.৮.১৯ মোতাবেক কললিস্ট সূত্রে প্রতিবেশী সৌদী প্রবাসী ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী ও কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা গ্রামের মৃত মেছের আলী মন্ডলের মেয়ে নাছিমা (৩৫) কে আটক করে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৪ আগস্ট রবিবার মোশারফের সাথে দেখা, নিখোঁজ ও খুন হওয়ার বিষয়ে স্বীকার করেন নাছিমা।

মোশারফের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ও একই গ্রামের গজারিয়া বিলে খুন হওয়ায় এসপি স্যাঁরের নির্দেশ ও পরামর্শক্রমে কালিহাতী থানায় মামলা হয় ও আটককৃত গৃহবধুকে কালিহাতী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে ঘাটাইলডটকমকে জানান তিনি।

কালিহাতী থানার অফিসার ইন-চার্জ হাসান-আল-মামুন এ বিষয়ে বলেন, এসপি স্যাঁরের নির্দেশ ও পরামর্শক্রমে কালিহাতী থানায় এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই সজীব, মামলা নং-১৪ তারিখ- ১৭.৮.১৯ ইং ও আটককৃত গৃহবধু নাছিমাকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার অপর আসামী আটককৃত গৃহবধু নাছিমার ভাই আকতারকে আটক ও গজারিয়া বিলে গত দুইদিন যাবৎ লাশ উদ্ধারে জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে ঘাটাইলডটকমকে জানান।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইলডটকম)/-