পঞ্চম দিনের মতো শুক্রবারেও টাঙ্গাইলে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট

টাঙ্গাইলে গণপরিবহনে পঞ্চম দিনের অঘোষিত ধর্মঘটে বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়ক প্রায় ফাঁকা রয়েছে। মাঝে মাঝে দু-একটি বাস-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল করলেও অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা থাকছে। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) টাঙ্গাইল বাসটার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি। জেলার বাইরে থেকেও কোন গাড়ি টার্মিনালে প্রবেশ করেনি।

এদিকে পণ্যবাহী পরিবহনের ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম চলাচল করতে দেখা গেছে। ফলে যাত্র সাধারণ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে এবং খুচরা বাজার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে।

জানাগেছে, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধনের জন্য পরিবহন শ্রমিকরা অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছেন। গত সোমবার(১৮ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অঘোষিত ধর্মঘটের পঞ্চম দিন শুক্রবারও(২২ নভেম্বর) টাঙ্গাইল থেকে স্বাভাবিক সময়ের ন্যায় বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী গণপরিবহন ছেড়ে যায়নি। শ্রমিকরা নতুন আইনের অন্তত পক্ষে ৯টি ধারা বাতিল ও সংশোধনের দাবিতে কোন ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট পালন করছেন।

টাঙ্গাইল বাস টার্মিনালে অবস্থানকারী যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে দেলদুয়ার উপজেলা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে বাসটার্মিনালে এসেছেন। অঘোষিত শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে এখন তিনি একাই কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।

কালিহাতী থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আসা যাত্রী শফিকুল ইসলাম, রাঙা মিয়া ও আব্দুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা খবর পান গণপরিবহনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই তারা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বগুড়া যাওয়ার জন্য সকাল ১০টার দিকে এলেঙ্গা বাসস্টেশনে এসেছেন। কিন্তু গণপরিবহন চলাচল না করায় দুপুর দুই টার দিকে তারা বাড়ি ফিরে যান।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত পরিবহন চালানো। ঘোষণা না দিয়ে এভাবে দাবি আদায়ের পন্থা সংগঠন সমর্থন করেনা। এর পরেও শ্রমিকরা কর্মবিরতির মাধ্যমে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছে। এজন্য শুক্রবারও টাঙ্গাইল থেকে কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি। তিনি জানান, ঢাকায় ফেডারেশনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, শুক্রবারও টাঙ্গাইলে গণপরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। ঢাকায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পরিবহন চলবে কিনা সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-