ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) জন্মকথা

উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গতকাল ২৬ জুলাই।

১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষার স্যান্টো ও সিয়েটা চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী পাতি বুর্জোয়া নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের বামপন্থী এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিদার অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৫-২৬ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে কেন মওলানা ভাসানী এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করলেন কিংবা কেনই বা তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নতুন দল গড়ার দিকে মনোনিবেশ করলেন?

অনেকেই এর কারণের গভীরতায় না গিয়ে ঢালাওভাবে তার দল ত্যাগের সমালোচনা করে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে কবি বুলবুল খান মাহবুব তার মওলানা ভাসানী- অনন্য ব্যতিক্রম নিবন্ধে লিখেছেন:

“মওলানা ভাসানীর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রায় সব সময়েই কোন না কোন পার্লামেন্টারি দলের সঙ্গে সংযুক্ত থেকেছেন। কিন্তু কখনই জনতার স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ তার কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়নি। তাই যে মুহূর্তে তার দল ক্ষমতার মোহে জনতার স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সেই মুহূর্তেই তিনি তার প্রাণ প্রিয় সংগঠনকে ছিন্ন বস্ত্রের ন্যায় ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি। এই দল ত্যাগের ব্যাপারে মওলানা ভাসানীর সমালোচকরা বলে থাকে তিনি বার বার দল ত্যাগ করেন।

কিন্তু এই বুদ্ধিমানদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্য, কোন মুহূর্তে তিনি দল ত্যাগ করেছেন?

দেখা গেছে যে সংগঠনকে গড়ে তুলতে এই মজলুম নেতা তাঁর দিন-রাত্রির আরামকে কোরবানি করে গ্রামে গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সভা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের প্রাণ সঞ্চার করেছেন- সেই সংগঠনের চরম দুর্দিনে তিনি কি দল ত্যাগ করেছেন? নিশ্চয়ই নয়।

বহু বছরের ত্যাগের বিনিময়ে ক্ষমতা দখলের পর সংগঠনের সুদিনে যখন একটু অবসর নেয়ার পালা সেই মুহূর্তে জনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদে আবার নতুন করে জনতার দাবি নিয়ে তাকে নতুন বিরোধীদলের জম্ম দিতে হয়েছে।

বহু তথাকথিত দেশপ্রেমিক নেতার ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজের জীবনে বারবার লাঞ্ছনা ভোগ করেছেন দীর্ঘদিন সংগ্রামের পর ক্ষমতা দখল করে অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করে জনতা এবং তার বিরোধীদের উপর তিনি তার পূর্বসুরীদের একই কায়দায় অত্যাচার চালাচ্ছেন।

মওলানা ভাসানী তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই কপটতাকে স্বীকার করতে পারেননি- জনগণ এবং তাদের সুখ-দুঃখ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেননি বলেই তাকে দু’তিনবার নিজের হাতে গড়া সংগঠন ত্যাগ করতে হয়েছে।

নিজের দীর্ঘ দিনের দুঃসময়ের সহকর্মীরা যখন ক্ষমতায় গিয়ে জনতার কথা ভুলে গেছে তখন নিজের হাতে গড়ে তোলা কর্মীদের ত্যাগ করে নতুন কর্মী সৃষ্টি করার কাজে নতুন করে আত্মনিয়োগ করেছেন।”

স্মরণ করা যেতে পারে মওলানা ভাসানীর আসাম জীবনের কথা। সেখানেও তিনি মুসলিম লীগকে প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। স্যার সাদুল্লাহকে আসামের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সাদুল্লাহ যখন তার ঘোষিত অঙ্গিকার থেকে সরে যেতে থাকলেন ভাসানী তখন সংসদে ও সংসদের বাইরে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। জনতার স্বার্থে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এরপর যে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য একদিন তিনি আন্দোলনে আন্দালন সংগ্রাম করেছেন; সেই পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ বাজেট অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে তিনি নিজ দলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বলেছেন, আমরা কি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের গোলাম?

মুসলিম লীগ সরকারের অপকীর্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তরুণ শেখ মুজিবকে সাথে নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে, শহরে-বন্দরে উল্কার মতো ছুটে বেড়িয়েছেন।

মুসলিম লীগ সরকারের জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে সদ্য প্রতিষ্ঠিত দলটিকে প্রদেশব্যাপী জনপ্রিয় করেছেন। ‘৫২-র ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটা সেই সময় যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে কথা বলাকে আল্লাহর নাফরমানী বলে প্রচার করা হতো।

১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর তারিখে দলের কাউন্সিল অধিবেশনে দলটিকে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করেছেন।

আওয়ামী লীগে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অন্তর্ভুক্তি একদিকে যেমন দলকে শক্তিশালী করেছে; অন্যদিকে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে বিচ্যুতিও ঘটিয়েছে। যার প্রকাশ ঘটতে থাকে ‘৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়লাভের পর থেকে।

নির্বাচনের পূর্বে যুক্তফ্রন্টের দেয়া ২১ দফার প্রতি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জনগণের মোহভঙ্গ ঘটে। এমতাবস্থায়, যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলেও নিজেদের অর্ন্তদ্বন্দ্ব আর অন্তঃকলহের কারণে ৩০ মে মওলানা ভাসানীর অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল  হক মন্ত্রীসভাকে বরখাস্ত করে পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করে।

এসময় বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদানের জন্য লন্ডনে অবস্থানরত মওলানা ভাসানী সাংবাদিক সম্মেলন করে তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেন। এরপর অনেক পানি ঘোলা করে সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী হয়েই তার বিখ্যাত ‘জিরো প্লাস জিরো ইকুয়েল টু জিরো’ থিউরি দিলেন।

ঘোষণা করলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে পূর্ব পাকিস্তানের ৯৮% স্বায়ত্বশাসন লাভ হয়ে গেছে’।

এসময় ক্ষমতাসীনরা দল এবং ২১-দফার আদর্শ উদ্দেশ্য বিরোধী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দফার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করতে থাকলে মওলানা ভাসানী প্রকাশ্যেই তার সমালোচনা শুরু করেন।

এহেন পরিস্থিতিতে মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালের ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি কাগমারীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন এবং একই সাথে এক সাংস্কৃতিক সম্মেলন আহ্বান করেন। কেন্দ্রে ও প্রদেশে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়।

৭ ফেব্রুয়ারির কাউন্সিল অধিবেশনে ভাসানী স্বায়ত্বশাসন, পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিট চালু; বিশেষ করে বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর তীব্র সমালোচনা করেন।

এরপর থেকে ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী দ্বন্ধ প্রকট হতে থাকে। একই সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানিয়ে একদিকে যেমন ভাঙনের আওয়াজ তোলেন; অন্যদিকে সাংস্কৃতিক  সম্মেলনে পর্বে তিনি নতুন একটি দেশের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক চেহারার স্বরূপ উন্মোচন করেন। রূপক অর্থে এ যেন ইংরেজ কবি শেলীর ‘Destroyer’ & preserver’ তত্ত্বের সাথে তুলনীয়।

কাগমারী সম্মেলনের পূর্বাপর দৈনিক ইত্তেফাক বিশেষ উস্কানীদাতার ভূমিকা পালন করতে থাকে। সোহরাওয়ার্দীপন্থীরা মওলানা ভাসানীকে ভারতের লেলিয়ে দেয়া কুকুর বলে আক্রমণ করে।

অথচ এই সোহরাওয়ার্দীকেই একদিন মওলানা ভাসানী দলে টেনেছিলেন। তার উল্লেখ পাওয়া যায় শেখ মুজিবুর রহমান এর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে।

এই গ্রন্থের ২১৬ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীকে উল্লেখ করে লিখেছেন, আমি তাকে জানালাম, “আপনি জিন্নাহ আওয়ামী লীগ করেছেন, আমরা নাম পরিবর্তন করতে পারব না। কোনো ব্যক্তির নাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ করতে চাই না। দ্বিতীয়ত আমাদের ম্যানিফেস্টো আছে, গঠনতন্ত্র আছে, তার পরিবর্তন করা সম্ভবপর নয়। মওলানা ভাসানী সাহেব আমাকে ১৯৪৯ সালে আপনার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

তখনও তিনি নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তারও কোনো আপত্তি থাকবে না, যদি আপনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের ম্যানিফেস্টো ও গঠনতন্ত্র মেনে নেন।”

এখানে একটি ব্যাপার উপলব্ধি করতে হবে যে, মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নয়; সুসময়ে দল ছেড়েছেন। যে দলটির তিনি শুধু প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিই নন, দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি এই দলটিকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকল অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলেছিলেন।

সেই দল পরিত্যাগ করার সময় তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন বৈকি! কিন্তু আদর্শের কাছে আপোষ করা তার ধাতে ছিল না। তাই তিনি ‘৫৭ সালের ১৮ মার্চ অলি আহাদের মাধ্যমে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বরাবর এক পদত্যাগ পত্র পেশ করেন।

সপ্তাহখানেক পর ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আবেদন শিরোনামে এক প্রচারপত্রে তিনি বলেন, ‘২১-দফা দাবি আদায়ের জন্য সারা দেশময় আন্দোলন করুন।’

এই প্রচারপত্র এটাই প্রমাণ করে যে তখনও তিনি আওয়ামী লীগ ছাড়েন নাই। কিন্তু ৩০ মার্চ ৫৬ সিম্পসন রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় বহিস্কার-পাল্টা বহিস্কার প্রশ্নে দল ভেঙে যাওয়ার সমস্ত আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায়।

যদিও শেখ মুজিবুর রহমান ভাসানীকে তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য জোরালো অনুরোধ জানান।

একই বছর ১৩-১৪ জুন ঢাকার ‘শাবিস্তান’ প্রেক্ষাগৃহে ফের আওয়ামী লীগ নির্বাহী পরিষদের অধিবেশন বসে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকের অনুরোধে মওলানা ভাসানী কিছুক্ষণের জন্য সভায় উপস্থিত হন।

কিন্তু “ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শয্যা থেকে আগত অসুস্থ নেতা মওলানা ভাসানীকে ‘ভারতের দালাল মুর্দাবাদ’ জাতীয় অশালীন শ্লোগানের মাধ্যমে অপমান করা হয়, তাকে স্বচ্ছন্দে বলতে দেয়া হয়নি এবং ফলে তিনি দ্রুত ভাষণ ‘শেষ’ করেই ফিরে গিয়েছিলেন হাসপাতালে।”

এরপর ‘৫৭-র ২৪ জুলাই ভাসানী আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কের পরিসমাপ্তি ঘটান।

এবার ‘নিখিল পাকিস্তান গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন’ প্রসঙ্গে আসা যাক।

‘৫৭-র ২৫ জুলাই মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সম্মেলন আরম্ভ হয় একদিকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা অন্যদিকে হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে। সম্মেলনে ভাসানী তার দীর্ঘ লিখিত ভাষণে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নতুন দল গঠনের প্রেক্ষিত বর্ণনা করেন।

কৃষিপ্রধান পাকিস্তানের কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার দশ বছর পরও দেশের কৃষক সমাজ স্বাধীনতার কোনো আস্বাদন পায় নাই। তারা আজ ভুখা।’

শ্রমিকদের শোষণের বিরুদ্ধে সরকারের নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা নূন্যতম মজুরি থেকে বঞ্চিত, তারা কোনো আন্দোলন করতে গেলে তাদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতি।’

তিনি তার ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন, পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কেই তিনি বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বস্তুত সরকারের সঙ্গে মনোমালিন্যের সেটাই ছিলো মুখ্য কারণ।

সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তান হতে যোগ দিয়েছিলেন পাক-ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকথার নায়ক সীমান্ত প্রদেশের লালকোঠা নেতা সীমান্ত গান্ধী খান আবদুল গাফফার খান, পাঞ্জাবের জননেতা মিয়া ইফতেখার উদ্দিন, সিন্ধুর জননেতা ঝানু পার্লামেন্টারিয়ান জিএম সৈয়দ, পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক ওসমানী, বেলুচিস্তানের আবদুস সামাদ খান আচাকজাই, খান আবদুল ওয়ালী খান, পাঞ্জাবের মেজর ইসহাক, ব্যারিস্টার মিয়া মাহমুদ আলী কাসুরী, আফজল খান, প্রিন্স আবদুল করিম, গাউস বকস বেজেঞ্জো, খায়ের বকশ মারী, আতাউল্লাহ খান মেঙ্গল, আবরার আবদুল গফুর, আবরার সেকেন্দর খান, গোলাম মোহাম্মদ লেঘারী, হাশিম খান গিলয়াই, এয়ার কমান্ডার জানজুয়া, আবদুল মজিদ সিন্ধী প্রমূখ।

যে সকল নেতাকর্মী সম্মেলন সফল করতে নিরলস ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, মোজাফ্ফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, চৌধুরী হারুন-উর রশীদ, পীর হাবিবুর রহমান, অলি আহাদ, দেওয়ান মাহবুব আলী, আতাউর রহমান, বেগম সেলিনা বানু, মণিকৃষ্ণ সেন, কাজী মোহাম্মদ ইদরিস, আবু জাফর শামসুদ্দিন, হাতেম আলী খান, মোহাম্মদ সুলতান, শওকত আলী খান, ইয়ার মোহাম্মদ খান, ডাঃ আবদুল করিম, অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম, মাহমুদ আলী, মোখলেসুর রহমান, মীর্জা গোলাম হাফিজ, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাইদুল হাসান, নুরুল হক চৌধুরী, সলিমুল হক খান মিল্কি, আবদুল মোত্তাকিম চৌধুরী, আবদুস সামাদ আজাদ প্রমূখ।

সম্মেলনে উপস্থিত রণেশ মৈত্রের ভাষায়, দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচীতে “পিনপতন নিরবতার মধ্যে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্মেলন অগ্রসর হতে থাকলো, তর্ক-বিতর্কও চললো। দলের নাম, দলীয় পতাকা (সবুজ এবং লাল কাপড়ে- লাল অংশে পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের স্মারক হিসেবে পাঁচটি সাদা তারকা খচিত), ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র,  দু’টি কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হলো বিকেল তিনটে সাড়ে তিনটে নাগাদ।

সেদিন আসলেই এক অভূতপূর্ব প্রাণবন্যা পরিলক্ষিত হয়েছিলো পাকিস্তানের সকল প্রদেশ ও অঞ্চল থেকে আগত নেতা ও কর্মীদের মধ্যে। হলটি বারবার ফেটে পড়েছিলো মুহুর্মুহু করতালি ও গগণবিদারী শ্লোগানের মধ্যে।

প্রতিনিধি সম্মেলনের কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করার সাথে সাথে রূপমহল সিনেমা হলের সামনে সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়াতে বলা হলো।

পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দসহ সমবেত সকল প্রতিনিধি স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মী মিছিল করে যাবেন ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে জনসভা করতে।

যেভাবে বলা হলো, সেভাবেই মুহূর্তের মধ্যে সকলে প্রস্তুতি নিয়ে ফেললো।

গগণবিদারী শ্লোগান, করতালি ও নতুন পার্টি “ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি জিন্দাবাদ”, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক”, “পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে”, “পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট বাতিল করো”, “মাশরেকী ঔর মাগরেবী পাকিস্তান কি আওয়াম কি ইত্তেহাদ”, (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ঐক্য জিন্দাবাদ) প্রভৃতি ধ্বনিতে মুখরিত হলো এই ঐতিহাসিক মিছিল, যার সামনের সারিতে ছিলেন মওলানা ভাসানী, খান আবদুল গাফ্ফার খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।”

পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি বৃহত্তর উদারনৈতিক দল হিসেবে জন্ম নিলো ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- সংক্ষেপে ন্যাপ।

পরদিন দৈনিক সংবাদ এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো এরুপঃ ‘পাকিস্তানের উভয় অংশের গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে নয়া রাজনৈতিক দল গঠিত। ঢাকায় অনুষ্ঠানরত গণতান্ত্রিক সম্মেলনের অভূতপূর্ব সাফল্যঃ বার শতাধিক প্রতিনিধির সমাবেশে জাগ্রত জনমতের অভিব্যক্তি।’

নবগঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মওলানা ভাসানী ও মাহমুদুল হক উসমানী।

এছাড়া পূর্ব পাকিস্তান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মওলানা ভাসানী ও মাহমুদ আলী এবং পশ্চিম পাকিস্তান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে খান আবদুল গাফ্ফার খান ও মাহমুদ আলী কাসুরী নির্বাচিত হন।

পার্টির নীতি ও আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র।

১৯৭১ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি সন্তোষ দরবার হলে ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান সর্বদলীয় সম্মেলন’ উপলক্ষে এক প্রতিনিধি সম্মেলনে দেশের ইতিহাস, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ পূর্বক স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শণ করে জনগণ এখন স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত বলে টানা ছয় ঘন্টা বক্তৃতা করেন।

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর ৯ মার্চ পল্টনের জনসভায় তিনি জনগণকে প্রত্যক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপাইয়া পরার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দফা দাবীনামা পেশ করেন।

২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরীহ বাঙ্গালির উপর শুরু করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। ২৬ মার্চ শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা যুদ্ধ।

১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে এবং ৪ এপ্রিল মওলানা ভাসানীর খোঁজে সন্তোষে প্রবেশ করে তার বসত বাড়ি ও দরবার হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্তোষে তাঁকে না পেয়ে তারা ৬ এপ্রিল মাইল দুয়েক পশ্চিমে বিন্যাফৈর গ্রাম আক্রমণ করে এবং স্ট্রেচার বুলেট দিয়ে দূর থেকে তার বিন্যাফৈরের বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

এর আগে তিনি বিন্যাফৈরের বাড়িতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে যুদ্ধের ‘পরিকল্পনা নির্ধারণী সভা’করছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “জনবল আছে, শুধু অস্ত্র চাই।”

সভা চলাকালীণ সময়ই তিনি হানাদারদের উপস্থিতি টের পান এবং গান পয়েন্টে এগিয়ে আসা হানাদার বাহিনীর ফাঁক-ফোকর গলিয়ে চাদর মুরি দিয়ে সেখান থেকে সরে পরতে সক্ষম হন।

১৫-১৬ এপ্রিল ধলেশ্বরী-যমুনা হয়ে রৌমারীর নামাজের চর সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করলে তিনি এই সরকারকে সমর্থন দান করেন।

তথাপি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দুই মাস বাঙ্গালি নেতাদের মধ্যে মওলানা ভাসানীর বক্তৃতা বিবৃতি সাক্ষাৎকারই ভারতের পত্র পত্রিকায় সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।

২৩ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকায় তাঁর একটি ঐতিহাসিক বিবৃতি গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়।

এতে তিনি বলেন, “বর্তমান দুর্যোগের মুহুর্তে মানবজাতির কাছে বাংলাদেশের জ্বলন্ত প্রশ্ন: বর্বর পশুশক্তির কাছে কি ন্যায়সঙ্গত মহান সংগ্রাম চিরতরে নিষ্পেষিত হবে?”

বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দান এবং গণহত্যা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে তারবার্তা পাঠান। যার মধ্যে ছিলেন চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌএনলাই, রুশ কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিওনিড ব্রেঝনেভ, সুপ্রিম সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগোর্নি ও প্রধানমন্ত্রী আলেস্কি কোসিগিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন, ফরাসী প্রেসিডেন্ট জর্জ পম্পিডু, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডোয়ার্ড হীথ, জুগোস্লাভ প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো, মিশরীয় প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সা’দাত, আরব লীগ সেক্রেটারি ডিলাল্লো তেলি প্রমুখ।

সেসব তারবার্তা ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে ছাপানো হয়। যেমন নিক্সনকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, “আর অস্ত্র দেবেন না।”

১৬ মে আনন্দবাজার পত্রিকা ‘ইয়াহিয়া খাঁকে ভাসানীর চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে একটি বড় প্রতিবেদন ছাপায়।

৮ জুন আনন্দবাজার লেখে, ‘লক্ষ প্রাণের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আসবে-মওলানা ভাসানী।’

‘Sovereign Bangladesh is the’ শিরোনামে দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরদের সর্তক করে দেন।

১৯৭১ সালের ২৪ জুন এক বিবৃতিতে মওলানা ভাসানী বলেন, “জীবনের সব সম্পদ হারিয়ে, নারীর ইজ্জত বিকিয়ে, ঘরবাড়ি হারিয়ে, দেশ থেকে বিতারিত হয়ে এবং দশ লক্ষ অমূল্য প্রাণ দান করে স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক মীমাংশার নামে ধোঁকাবাজি কিছুতেই গ্রহণ করবে না। তাদের একমাত্র পণ হয় পূর্ণ স্বাধীনতা, না হয় মৃত্যু। এর মধ্যে গোজামিলের কোন স্থান নাই।”

এ সময় প্রবাসী সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সিআইএ-র চক্রান্ত ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পাকিস্তানও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেবল একদলীয় যুদ্ধ বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারণাকালে মুক্তিযুদ্ধকে একটি সর্বদলীয় রূপ দিতে ভাসানী-তাজউদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৭১’র ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে প্রবাসী সরকারের ‘উপদেষ্টা পরিষদ’গঠিত হয়।

৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী। কলকাতার হাজরা স্ট্রীটে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে মওলানা ভাসানী কোন রকম আপস চক্রান্তের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে ‘সাত দফা’ প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

এর আগে ৩০-৩১ মে কলকাতার বেলাঘাটায় প্রবাসী বামপন্থী রাজনীতিবিদদের দু’দিনব্যপী এক সম্মেলন শেষে ০১ জুন মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নভেম্বর মাসে দেরাদুনে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারত সরকার তাঁকে ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের জন্য অনুরোধ করেন।

৩ ডিসেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে হাসপাতাল থেকে তাকে দিল্লীর উপকন্ঠে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশে ফেরার পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

লেখক: আজাদ খান ভাসানী, সভাপতি, মওলানা ভাসানী কৃষক সমিতি; সাধারণ সম্পাদক, ভাসানী পরিষদ-মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র:

*সৈয়দ আবুল মকসুদ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

*আবু জাফর শামসুদ্দিন, কাগমারী সম্মেলন ও ন্যাপ গঠন প্রসঙ্গ

*বদরুদ্দীন উমর, কাগমারী সম্মেলনের ৫০ বছর পূর্তি ও বর্তমান বাংলাদেশ

*অধ্যাপক কে এ এম সা’দউদ্দিন, কাগমারী সম্মেলনঃ আগে ও পরে

*মহসিন শস্ত্রপাণি, কাগমারী সম্মেলনঃ পরিপ্রেক্ষিত ও তাৎপর্য

*শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী

*জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানী-জীবন ও সংগ্রাম, শাহ আহমদ রেজা

*বাংলাদেশে ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি, শামিমা আকতার লিপি।

*নজমুল হক নান্নু, ইতিহাসের ধারায় মওলানা ভাসানী

*আমজাদ হোসেন, মওলানা ভাসানীর জীবন ও রাজনীতি