নিউইয়র্কে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেলেন নাগরপুরের ফারহান

একের পর এক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রবাসী বাঙ্গালীদের মৃত্যুর মিছিল বাড়তে থাকায় যখন শোকে স্তব্ধ পুরো বাঙ্গালী কমিউনিটি। ঠিক এমনি সময় সেই সড়ক দূর্ঘটনায় এবার মারা গেলেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদের সন্তান নিউইয়র্ক প্রবাসী ফারহান সাঈদ।

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় পরিবারের সাথে বসবাস করা মাত্র ২১ বছর বয়সী ফারহান সাঈদের এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর মাঝে।

শিশু বয়সে সে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী হয়। খবর ইউএনএ’র।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) ভোর রাত ৪টার দিকে নিউইয়র্কের আপষ্টেটের বেয়ার মাউন্টেইন এলাকায় প্লালিসাইড পার্কওয়ের এক্সিট ১৮-তে গাড়ী দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ফারহান সাঈদ মারা যান। দূর্ঘটনায় তার দুই বন্ধু আহত হলেও তারা আশংকামুক্ত।

ঘটনার সময় ফারহানের বন্ধু ইব্রাহিম ইমু গাড়ী ড্রাইভ করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে অতি দ্রুত গাড়ী চালানোর সময় ওভার স্পীডের কারণেই তারা দূর্ঘটনার শিকার হন। লং আইল্যান্ডে বসবাসকারী ইমু মঙ্গলবার দিনই ‘ইনফিনিটি স্পোর্টস কার’ ক্রয় করে এবং নতুন গাড়ী নিয়ে আনন্দ করতে তারা লং ড্রাইভে যায়।

দূর্ঘটনার সময় গাড়ীটি মোড় ঘুরার সময় একটি গাছের সাথে গাড়ীর পিছনের দিক ধাক্কা খায়। এতে গাড়ীর পিছন সীটে বসা ফারহান সাঈদ মারা যান। পরবর্তীতে আহত অপর দু’জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয় এবং তারা আশংকামুক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ফারহান সাঈদের মা তার সন্তানের দূর্ঘটনার খবর পেলেও তিনি তা বিশ্বাস করতে চাননি। সারাদিন তিনি চোখের জল ফেলেন আর মাঝে মাঝেই সন্তানের স্মৃতি তুলে ধরে বিলাপ করেন।

ফারহান সাঈদও মঙ্গলবার দিন নিজের কাজে যাতায়াতের জন্য ‘ইউজড ভলবো কার’ ক্রয় করে। কিন্তু বন্ধু ইমুর কার নিউ ব্র্যান্ডের হওয়ায় তার আহবানেই মধ্যরাতে লং ড্রাইভে বের হয়। ফারহানের ক্রয় করা গাড়ীটি তাদের বাসার সামনে পার্ক করা রয়েছে।

ইউএনএ প্রতিনিধি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় গিয়ে হৃদয় বিদারক দৃশ্য অবলোকন করেন। দেখা যায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ফারহানদের বাসায় সমবেত হয়ে তার মা নাসরিন আক্তার লাকি-কে শান্তনা দিচ্ছেন আর মা লাকি পুত্রের কথা বলে বিলাপ করছেন।

নাসরিন আক্তার লাকি জানান, ‘রাতে বাসায় ফিরে ফারহান খাওয়া-দাওয়া করে তার (মা) কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘুমুতে যান। এরপর আমরাও ঘুমিয়ে পরি। ভোরে বড় ছেলের পায়ের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং জীবনের চরম দু:সংবাদটি পাই। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না।’

এদিকে ফারহানের মরদেহ আপষ্টেট থেকে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটিতে আনা হয় এবং পাক ফিনেরাল হোমে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ আগষ্ট) বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার নামাজে জানাজা শেষে শুক্রবার (২৭ আগষ্ট) তার মরদেহ লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল এর মুসলিম কবর স্থানে দাফন করার কথা।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email